শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে চট্টগ্রামে ইশা ছাত্র আন্দোলনের মানববন্ধন

নজর২৪, চট্রগ্রাম- করোনার অজুহাতে দুই শিক্ষাবর্ষে দীর্ঘ ৪৩৬ দিন যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার দরুন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত দেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

 

যেখানে রাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম চলমান। গণ পরিবহন, অফিস-আদালত, কারখানা-গার্মেন্টসসহ কি খোলা নেই বাংলাদেশে! কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই শুধু করোনা বাড়বে? এটি মিথ্যা অজুহাত ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি। সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯তম সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে উপমহাদেশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘৃণিত নজির স্থাপন করেছে।

 

৩০ মে’২১ রবিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর উদ্যোগে অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন সাবেক ছাত্র নেতা ও ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি এইচ , এম শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু শিক্ষা যদি হয় অটোপাশ তবে জাতি হবে মেধা শূন্য। শিক্ষার্থীরা আজ বই-খাতা রেখে জীবিকার তাড়নায় কাজে নিয়োজিত হচ্ছে। অনেকেই শিক্ষার আশা ছেড়ে দিচ্ছে। অপর দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। মা/দ/ক, ই/য়া/বা ও শিশু ধ্বংসাত্মক ডিভাইস তাদের নিত্য সঙ্গী হচ্ছে। এভাবে জাতিকে বোকা বানিয়ে একটি মেধাহীন প্রজন্ম তৈরি করে দেশকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই, তিনি শিক্ষা নিয়ে সরকারকে তামাশা বন্ধের জোর দাবী জানান।

 

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ইশা ছাত্র আন্দোলন- চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিম শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আশরাফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলেই সরকারকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য বারংবার তাগিদ দিয়ে আসলেও কারো কথায় কর্ণপাত না করে সরকার একগুঁয়ে আচরণ করে যাচ্ছে।

 

অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দিলে সরকার আবারও এসএসসি ও এইচএসসিতে অটোপাশ দিতে বাধ্য হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট বাড়বে। তাই অটোপাশ নয়, সেশনজট নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় মনযোগ ফিরাতে অতিসত্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। অবিলম্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *