শেখ রাসেল, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি- ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর প্রভাবে মোংলায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি জলোচ্ছ্বাস ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের বুধবার (২৬ মে) দুপুরে শুকনা খাবার এবং রাতের জন্য খিচুড়ি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্লাবিত গ্রামবাসীর টেকসই বেড়িবাঁধের দাবীর বিষয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে’র হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখরউদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মোঃলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। পণ্য উঠা-নামার কাজ চলমান আছে।
মোংলার দক্ষিণ কাইনমারি গ্রামের গৃহবধু কমলা সরকার বলেন, সকালে জোয়ারের পানিতে এলাকা তলিয়ে গেছে। কেউ চুলা জ্বালাতে পারেনি। এই মুহুর্তে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং জলোচ্ছ্বাসের দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে আমাদের প্রধান দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ চাই।
কলাতলা গ্রামের গীতা হালদারও একই দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা একইভাবে বিপর্যস্ত হই, কিন্তু আমাদের দাবি মানা হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর প্রভাবে জোয়ারের পানিতে মোংলার ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামের এক হাজার থেকে ১২শ’ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৬শ’ মানুষকে বুধবার দুপুর শুকনা খাবার এবং রাতে সাড়ে ৪শো মানুষকে খিচুড়ি দেয়া হয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের গ্রামবাসীর দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মোংলা উপজেলা ক্লাইমেট চেঞ্জ এ্যাকশন গ্রুপের সভাপতি মোহাম্মদ নূর আলম শেখ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে মোংলার ১৪ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের সময় একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার সমস্যার কোন সমাধান করছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান জানান, সরকার দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি তহবিলে ১৯ লাখ টাকা প্রদান করছে। জরুরি ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, দিয়াশলাই, নুডলস এবং চিনি বিতরণ করা হচ্ছে। জরুরি ত্রাণ হিসেবে ২০ হাজার পরিবারকে প্রয়োজনে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা যাবে।
