কারাগারের বাইরের জীবনকে ‘জুলুমের মুক্ত বাতাস’ বললেন মামুনুল হক

নজর২৪ ডেস্ক- ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ও সাম্প্রতিক তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের একের পর এক শীর্ষ নেতা যখন গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তখন রিসোর্ট-কাণ্ডে সমালোচিত নেতা মামুনুল হক বন্দিত্বের ‍প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

 

কারাগারের বাইরের জীবনকে তিনি ‘জুলুমের মুক্ত বাতাস’ হিসেবে দেখছেন।

 

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বারিধারা মাদরাসা থেকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

 

এর আগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ১১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলামাবাদী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সহসভাপতি মুফতি ইলিয়াস, ১৩ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফ উল্লাহ, ১৪ এপ্রিল সহকারী মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি ও কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

এছাড়া গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) মাওলানা যুবায়ের আহমেদ ও শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ নামে হেফাজতের দুই কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

মামুনুল হক নিজেও সহিংসতার মামলার আসামি এবং তাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (১৭ এপ্রিল) ফেসবুকে এসে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মামুনুল হক।

 

তিনি লিখেন, ‘নিজ দেশে যারা পরবাসীর মতো থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাদের কথা ভিন্ন। অন্যথায় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ইমানদারগণ এটা নীরবে মেনে নিতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে জুলুমের মুক্ত বাতাস থেকে প্রতিবাদের বন্দিত্বই হাজার গুণে শ্রেষ্ঠ!’

 

করোনা পরিস্থিতির ভয়বহতায় লকডাউনের সময় এভাবে আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গ্রেফতার অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সহিংসতার দায় হেফাজতের ওপর চাপানো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘারে চাপানোর নামান্তর! ২৭ মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল বিক্ষোভ, হরতাল, দোয়া ও প্রতিবাদ সমাবেশ হেফাজতে ইসলাম আহুত প্রতিটি কর্মসূচী পালিত হয়েছে প্রশাসনের অনুমোদন স্বাপেক্ষে এবং শান্তিপূর্ণভাবে।

 

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি আরও বলেন, ২৬শে মার্চের গন্ডগোলের দায় কোনোভাবেই হেফাজতের উপর বর্তায় না। এ দায় হেফাজতের উপর চাপানো সুস্পষ্ট অন্যায়। হরতালের পূর্বাপর বি.বাড়িয়ায় সংঘটিত সহিংসতার সাথে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, সেটা প্রশ্ন স্বাপেক্ষ।

 

তিনি বলেন, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কোন্দল ও তাদের কর্তৃক হামলার কথা খোদ প্রশাসনও অস্বীকার করে না। সুতরাং বি.বাড়িয়ার সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের দায় হেফাজতের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো বৈ কিছুই নয়।

 

‘হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালীন ৪ দিনে ঢাকায় তো একটা ইট-পাটকেলও ছোড়া হয়নি। পুলিশের নিরাপত্তা ও বেষ্টনীর মধ্যেই সবগুলো কর্মসূচী পালিত হয়েছে। তাহলে রোযা-রমযানের দিন ঢাকায় কেন ধরপাকড় চলছে।’

 

মামুনুল হকের প্রশ্ন, আজিজুল হক ইসলামাবাদী কাকে আঘাত করেছে? মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী কোথায় হামলা করেছে? মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাযী কার মাথায় বাড়ি মেরেছে? মাওলানা যুবায়ের আহমদ কার বারাভাতে ছাই দিয়েছে? মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা শরিফুল্লাহরা কোথায় কার উপর হাত তুলেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *