হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা শাখাওয়াত হোসেন রাজী গ্রেফতার

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

 

বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মাহবুব আলম জানান, সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনের নামে যেসব তাণ্ডব চালিয়েছে সেসব ঘটনায় রাজধানীর একাধিক থানায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি মামলায় মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

 

সাখাওয়াত রাজী ইসলামী ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি মুফতি ফজলুল হক আমিনীর মেয়ে জামাই।

 

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

 

যাত্রাবাড়ী থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এজাহারনামীয় আসামি মুফতি শরিফউল্লাহ। ২০১৩ সালের ৬ মে যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছিল।

 

আরও পড়ুন-

শিগগিরই হেফাজতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা, চলছে শীর্ষ নেতাদের আলোচনা

 

নজর২৪ ডেস্ক- মামলা, গ্রেপ্তার ও সরকারের চাপ মোকাবিলায় সাংগঠনিক নানা তৎপরতা শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, জেলায় জেলায় আইনি সহায়তা সেল গঠন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

গত রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খবর- প্রথম আলোর

 

আগামী ২৯ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সারা দেশের ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে সম্মেলনের আগে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। তবে নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার বেড়ে যাওয়ায় শিগগিরই কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়েও নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

 

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে হেফাজতের কমিটি রয়েছে। এর বাইরে সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করাসহ সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ‘সাংগঠনিক সেল’ গঠিত হয়। এই সেলের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেনকে।

 

জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, সাংগঠনিক সেলের মাধ্যমে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য রোববারের সভায় তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার নেতা–কর্মীদের মুক্তি ও মামলা পরিচালনার জন্য আইনি সহায়তা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুই থেকে তিন সদস্যের আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হবে আইনজীবীদের নিয়ে। হেফাজতের কার্যক্রম, মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

 

হেফাজত নেতারা জানান, আগামী ২৯ মে যে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে হেফাজতে ইসলামের বাইরে চরমোনাই পীর, ছারছিনার পীর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতসহ সমমনা ইসলামি দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

 

হেফাজতে ইসলামের সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘সম্মেলনে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব। হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন। আকিদাগতভাবে কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সবার উদ্দেশ্য ইসলামের জন্য কাজ করা। আশা করি সবাই আসবে।’

 

এদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় রোববার বৈঠক শেষে ফেরার পথে ওই রাতেই আটক হন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি এখন ২০১৩ সালে ঢাকায় সহিংসতার মামলায় রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় প্রায় প্রতিদিন হেফাজত নেতা–কর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। প্রয়াত আমির আহমদ শফীকে ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগে করা মামলায় বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৪৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পিবিআই।

 

এই অবস্থায় সারা দেশের হেফাজত নেতা–কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কর্মসূচি দেওয়ার কথাও ভাবছেন সংগঠনটির নেতারা।

 

এটা সরকারকে চাপে ফেলতে হেফাজত নতুন করে সংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে কি না, এই প্রশ্ন করা হলে হেফাজতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস বলেন, ‘সরকারকে চাপে ফেলতে কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য নয়। যে লক্ষ্যে হেফাজত গঠিত হয়েছে, তার জন্য কাজ করা হচ্ছে। বরং সরকার হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার জন্য পুরোনো মামলাগুলো সচল করছে। আট বছর আগের মামলায় নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।’

 

নতুন কর্মসূচির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আমরা সারা দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছি। সভা করতে না পারলে শিগগিরই ভার্চ্যুয়াল সভায় পরামর্শ করে কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটা রমজানের মধ্যেও হতে পারে।’

 

এর আগে সারাদেশে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

 

সোমবার (১২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে আমীরে হেফাজত বলেন, হেফাজতে ইসলাম দেশে শান্তি শৃঙ্খলা চায়। তবে জুলুমবাজদের জুলুমে পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

 

হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমাদের নিকট খবর এসেছে গভীর রাতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হেফাজত নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস চায় না। হেফাজত ইসলাম শান্তি চায়। হেফাজতে ইসলাম একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপ্রিয় সংগঠন।

 

তবে নেতাকর্মীদের উপর এভাবে জুলুম চলতে থাকলে আমরা নিশ্চুপ ঘরে বসে থাকবো না। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *