নজর২৪ ডেস্ক- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন এবং ক্যাম্পাসে মোদিবিরোধী মিছিলে হামলার প্রতিবাদে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো পতাকা মিছিল করেছে ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদ।
বুধবার (২৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পূর্বঘোষিত এ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাস্কর্যের পাদদেশে আগে থেকেই ছাত্রলীগ অবস্থান নেওয়ায় সমাবেশস্থল পরিবর্তন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ।
সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য ঘুরে সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক, গো ইন্ডিয়া’, ‘সাম্প্রদায়িক মোদি, গো ব্যাক গো ব্যাক’, ‘স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘আমার বোন আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা। মিছিল শেষে ডাসের সামনে সমাবেশ করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সমাবেশ শেষে নরেন্দ্র মোদির কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছে। কিন্তু তাদের এই সহযোগিতার ঋণ পুড়াতে আমরা আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে বিলিয়ে দেব এটি হতে পারে না।’
তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা করেছে। তার হাতে নিরীহ মানুষের রক্ত লেগে আছে। মোদিকে যদি বাংলাদেশে আনা হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে বেইমানি করা হবে, ৩০ লাখ শহিদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। এই সাম্প্রদায়িক মোদিকে আমরা বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পারি না।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মানবতাবাদী যেসব রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক মোদিকে আমরা স্বাগত জানাতে পারছি না। মোদি যদি তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সীমান্তে হত্যার জন্য এ দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেন তাহলে আমরা মোদিকে স্বাগত জানাতাম।’
অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষ মোদিকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাচ্ছে না। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ মোদিকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার একমাত্র কারণ গদি রক্ষা করা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যদি মোদিকে বাংলাদেশে আনা হয়, গদিসহ ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।’
ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের শত্রুতা ভারতের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের শত্রুতা সাম্প্রদায়িক মোদির বিরুদ্ধে। যদি বাংলাদেশে মোদি আসে ছাত্র-যুব অধিকার পরিষদ প্রতিটা মোড়ে মোড়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে।’
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে পরিষদের নেতা মশিউর রহমান, মাহফুজুর রহমান খান, ফারুক হাসান বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন।
