নজর২৪, ঢাকা- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সমালোচনা করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুও যেন মুশতাকের মতো ‘স্বাভাবিক’ হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে গয়েশ্বর এ কথা বলেন। লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু এবং সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।
তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গয়েশ্বর বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, লেখক মুশতাকের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনাকে বলি, আপনার মৃত্যু যেন মুশতাকের মতোই স্বাভাবিক হয়। আল্লাহর কাছে এ দোয়াই করি।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক পথ আছে। উন্মুক্ত রাজপথে আন্দোলনে বাধা দিলে বিকল্প পথ খুঁজতে কর্মীরা বাধ্য হবে। সেই বিকল্প পথে যদি যায় তাহলে দেশটা কী হবে তা কিন্তু আপনাদের ভাবতে হবে। সুতরাং নিরাপত্তা শুধু আমাদের প্রয়োজন নয়, নিরাপত্তা সকলেরই প্রয়োজন। এদেশে নিরস্ত্র জনগণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করেছেন। তাদেরকে পরাজিত করে দেশের মাটিতে ফেরত পাঠিয়েছেন। আন্দোলনের মুখে অস্ত্র ও পোশাকের ভয় দেখিয়ে কখনই সত্য কথা আড়াল করা যাবে না। সে কারণেই বলছি মুক্তি দিন, প্রতিবাদ করতে দিন, গণতন্ত্রকে ফেতর আসতে দিন।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরে আসলে প্রশাসনে যারা চাকরি করবেন, তারা গর্বিত প্রশাসক হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হবেন। গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন জনগণের সেবা করা বাদ দিয়ে যদি লাঠিচার্জ করেন, তাহলে জনগণ লাঠি কেড়ে নিতে বাধ্য হবে। জনগণের দেশ জনগণ ডিসাইড করবে, জনগণের গণতন্ত্র জনগণ ফিরিয়ে আনবে। এখানে কোনো মন্ত্র-তন্ত্র কাজে লাগবে না।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আগামীকাল ৭ মার্চ, এদিনে তারেক রহমানের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তি নির্মূলের যে সূচনা হয়েছে তা সারাদেশ দেখেছে। বাংলাদেশের লেখক, বুদ্ধিজীবীরা গ্রেফতার হন, বিনা বিচারে জেল থেকে লাশ হয়ে বের হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মুসতাকের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক।’
তিনি বলেন, ‘শুধু শেখ হাসিনার কথায় লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক খুন হন না। শেখ হাসিনাকে যারা লালনপালন করেন, বাংলাদেশকে যারা শোষণ করেন তাদের ইচ্ছায়-অনিচ্ছার উপর বাংলাদেশের অনেকের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ বাংলাদেশের জায়গায় নাই, বাংলাদেশ দিল্লির শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবাই মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইলে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে, সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এক কাতারে সামিল হতে হবে। যেকোনো বাঁধাকে অতিক্রম করে তাদের পাকিস্তানিদের মতো পরাজিত করে যার যার ঘরে পাঠিয়ে দিতে হবে।’
