নাগরপুরে বোরো ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতিতে পোকা দমনে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বোরো ধান ক্ষেতের পোকা দমন করার পার্চিং পদ্ধতি। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে বোরো ক্ষেত রক্ষায় এ পদ্ধতি একটি কৃষি বান্ধব প্রযুক্তি।

 

এ প্রযুক্তি প্রয়োগে ধান ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োজন হয় না। একর প্রতি ক্ষেতে ৮ থেকে ১০টি বাঁশের কঞ্চি কিংবা গাছের ডাল পুতে দিতে হয়। এ পার্চিং বা ঝাটার উপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে।

 

এর ফলে জমিতে কীটনাশক খরচ কম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া কৃষকরাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে কৃষিবিদরা মনে করছেন।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগঞ্জের কৃষকদের ধান ক্ষেত সবুজে সমারোহ। বাতাসে সবুজ ধান গাছ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পোতা রয়েছে।

 

ওই পার্চিং বা ঝাটায় ফিঙ্গে, শালিক, পেচাঁ, দোয়েল সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে এবং সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা মাকড় ঔ সব পাখিরা খেয়ে ফেলে।

 

যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন পাওয়ার উজ্জল সম্ভাবনায় কৃষকের চোখে মুখে উচ্ছলতা ফুটে উঠেছে।

 

কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

 

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ক্ষেতের ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

 

এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। উপজেলার সদর

 

ইউনিয়নের কাঠুরী গ্রামের কৃষক শুকুর মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে আমি ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির প্রযুক্তি ব্যবহার করছি এতে কোন খরচ নেই। আমার আগ্রহ দেখে গ্রামের আঃ হাকিম মিয়া, ছাদরুল, মো: মোকলেছ মিয়া, হাবিবুর, রহিম, শামছু, হামেদ মিয়া এই কৃষকরাও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে।

 

উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শরিষাজানি গ্রামের কৃষক মো. মাইনুদ্দি মিয়া বলেন, আমরা কয়েকজন কৃষক মিলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বাড়ীর গাছ থেকে ডাল কেটে ক্ষেতে পুতে দিয়েছি।

 

ওই ডালে বসা পাখিরাই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে যেমন আর্থিক কোন খরচ হচ্ছেনা, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, পার্চিংয়ের মাধ্যমে ক্ষেতের ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার নিরাপদে দমন করা সম্ভব। ইহাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কম ও কৃষক লাভবান হবে।

 

এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার অনেক কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকের মাঝে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *