নিজস্ব প্রতিবেদক, নজর২৪- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর নির্বাচনে কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১০ জন আহত ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়েছে এলাকা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যে কোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ।
গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ভূঞাপুর পৌরসভা নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এদিন দুপুরে কুতুবপুর গ্রামে কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের পক্ষে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষে লাঠি হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সদ্য বিজয়ী কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। কেটে ফেলা হয় সূচী বেগম নামের এক নারীর হাতের আঙ্গুল। গুরুত্বর আহত হয় ৭ জন।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে নিজের (আনোয়ারের) সমর্থক আহত খায়রুল মারা গেছে এমন গুজব রটিয়ে বাকিটা সময় কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখেন তিনি।
এদিকে, ফলাফল ঘোষণা শেষে বিজয়ী হওয়ার পর আরেক খেলায় মেতে উঠেন আনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা। শুরু হয় প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ও তার সমর্থকদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর। দফায় দফায় চালানো হয় হামলা। ভাঙচুর ও কোপানো হয় কমপক্ষে ১৬টি বাড়ি। আতঙ্কে পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘরেই ঝুলছে তালা। কিছু কিছু বাড়িতে নারী ও ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ছাড়া তেমন কোন লোক চোঁখে পড়েনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদ্য বিজয়ী কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন ও পরাজিত প্রার্থী জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের এলাকায় পাওয়া যায়নি।
ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশিদুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল দিচ্ছে। পরাজিত প্রার্থী জাহিদুল সমর্থকের লোকজন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
