কাদের মির্জাকে শান্ত থাকতে বললেন ওবায়দুল কাদের

নজর২৪ ডেস্ক- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। এ সময় ওবায়দুল কাদের তার ভাই কাদের মির্জাকে শান্ত থাকতে বলেছেন।

 

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের এ সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতের পর কাদের মির্জা এ কথা জানান।

 

কাদের মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র। গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন তিনি। নির্বাচন চলাকালে তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভেতরে বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে।

 

কাদের মির্জা বার বার বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের দুই একজন সংসদ সদস্য ছাড়া অন্যরা পালানোর পথ পাবে না। তিনি এখনও তার বক্তব্যে অনড় রয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঘণ্টাখানেক বৈঠক শেষে বেরিয়ে যান আব্দুল কাদের মির্জা।

 

সভা শেষে সাংবাদিকদের আবদুল কাদের মির্জা বলেন, দলের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে নেওয়া সব কর্মসূচি স্থগিত করছি। ২ ফেব্রুয়ারি ডাকা সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করছি। নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে নেত্রীর কাছে অভিযোগ আছে। এসব বন্ধে তিনি পদক্ষেপ নেবেন আস্থা রাখি। বন্ধ না হলে একমাস পর প্রেসক্লাবে দাড়াব।

 

সাক্ষাতের পর কাদের মির্জার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। নির্বাচনের পর দেখা হয়নি, তাই দেখা করতে এসেছিলাম। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা কিছু কমিটি পুনর্গঠন করেছি, সেগুলো তাকে (সাধারণ সম্পাদক) জানিয়েছি। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ওই নির্বাচনও যাতে সুষ্ঠু হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

 

নির্বাচনের সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সে বিষয়ে ওবায়দুল কাদের কিছু বলেছেন কিনা জানতে চাওয়া হলে কাদের মির্জা বলেন, এসব বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। তবে তিনি (ওবায়দুল কাদের) শান্ত থাকতে বলেছেন। নেতারা যেসব আচরণ করেছেন, বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে নেত্রী (আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা) দেখছেন বলেও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন।

 

কাদের মির্জা বলেন, আমার পৌরসভায় সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আমি বিজয়ী হয়েছি। আমি যে বক্তব্য দিয়েছি তা আমি সব সময় বলবো। আমি আজীবন এ কথা বলে যাবো।

 

কাদের মির্জা বলেন, আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) প্রতি আস্থা আছে, শতভাগ আস্থা আছে। আমাদের নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। নেত্রীর নীতি-নৈতিকতা আছে। কখনো কথা বলে তা থেকে সরে যাননি। বাংলাদেশে নেত্রীর যে উন্নয়ন এটা বিশ্বের রোল মডেল। ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে ঘর বিতরণ করেছেন, এটা বিশ্বের মধ্যে নজিরবিহীন। এটা কি অস্বীকার করতে পারবেন? শেখ হাসিনা আগামী তিন বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশে কোনো কাজ আর বাকি থাকবে না। আমরা চাই শেখ হাসিনা এখন থেকে পরিকল্পনা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *