নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে কোভিড -১৯ এর মহামারীর কারনে ঘর বন্ধি শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ছুটি ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত । এর মধ্যে হাতে চলে এসেছে নতুন বই।
নতুন বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে নতুন কত স্বপ্ন। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুমনের স্বপ্ন গুলো অধরা। কত পরিচিত মুখ, সহপাঠী। শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মন্ডলী। তাদের স্নেহের পরশ, কড়া চোখের চাহনিগুলো আজ দুস্পাপ্য।
এসব অনুভব করছে শিশুমনে অপরদিকে শিক্ষকগণের মনে নিদারুণ কষ্ট। কতদিন ফেরেশতা হাসি অবলোকন করা হয়নি। ছোট্ট চোখে মুখে কত আবদার, কত আহৃলাদ! এসব অনুভব করার মত, ভাষায় বোঝানোর মত নয়।স্কুলগুলো ধুয়েমুছে চকচকা।
সামনের এ উঠোনে আবারও ধুলো উড়িয়ে দৌড়ঝাঁপ করবে শিশুরা। তাদের কলকাকলীতে ভরে উঠবে আকাশ বাতাস। শিক্ষার্থীরা নতুন স্কুল ড্রেস পড়বে। নতুন ক্লাসে উঠবে। নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয় ঘটবে। আবার সেই হাসাহাসি।
দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী,অভিভাবকরা স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চায়। সদ্য প্রাইমারীর গন্ডি ছাড়িয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আলিফ আহসান বলেন, নতুন স্কুল ড্রেস, নতুন জুতা, নতুন স্কুল ব্যাগ, নতুন স্কুল। এটার অনুভূতি অন্যরকম।
এছাড়া বাড়তি পাওনা নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয়। আমি প্রতিদিন অপেক্ষা করি- কবে স্কুলে যাবো। স্কুল কবে খুলবে? । ইস্! স্কুলটা যদি আজ খুলে দিতো ।
অভিভাবকরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনার সংক্রমণ কম থাকা গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলো খুলে দিন। স্কুলগুলো পরিষ্কার করে, আসনবিন্যাসে পরিবর্তন এনে (এক বেঞ্চে দুজন বসা), মাস্ক ব্যবহারসহ প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা স্কুল খোলার পক্ষে ।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, অনেকদিন ছোট্ট সোনামণিদের দুষ্ট মিষ্টি হাসি নেই। একদল শিশুর হৈ চৈ নেই। করুন চোখের আবদার নেই।
তবে আশা করছি শীঘ্রই স্কুল খুলবে। স্কুলের কক্ষ গুলো সুসজ্জিত করা হয়েছে। ময়লা আবর্জনা সাফ করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে স্কুল। আবারও ছোট্ট মণিদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে স্কুল আঙ্গিনা এটাই একমাত্র প্রত্যাশা।
সহকারী শিক্ষা অফিসার জি এম ফুয়াদ বলেন, করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বাড়বে।বাড়বে অনুপস্থিতি, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম। বিদ্যালয় খোলার পর বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কেমন হবে- এ বিষয়ে “রিকোভারী প্ল্যান” গ্রহণ করা হয়েছে।
