নজর২৪, ঢাকা- জেল-জুলুম গ্রেফতার করে ১৯৭১ সালে ‘পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুর কন্ঠকে স্তব্ধ করতে পারেনি তেমনিভাবে আমাকে গ্রেফতার করলেও আমার কন্ঠকে স্তব্ধ করতে পারবেন না’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি বলেন – আমার মাহফিল গুলোকে বন্ধ করে দিচ্ছেন, ১৪৪ ধারা জারি করে আমার বাকস্বাধীনতার সংবিধানসম্মত অধিকার হরণ করছেন। এভাবে টুটি চেপে কোন হকের আওয়াজকে বন্ধ করতে পারবেন না। একজনের কণ্ঠ স্তব্ধ করলে লক্ষ কণ্ঠ উচ্চারিত হবে।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন – স্বৈরাচারী পাকিস্তানিগোষ্ঠী ৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে তার কন্ঠকে স্তব্ধ করতে পারেনি, আজ আমাকে আপনারা গ্রেফতার করতে পারবেন, কিন্তু আমার কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে পারবেন না।
ঢাকা জেলা ক্রীড়া মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৪শে ডিসেম্বর) সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যে তিনি কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাতের বিদ্ধেষপূর্ণ বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে বহিস্কার করার দাবি জানিয়ে বলেন, বিজয়ের মাসে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন তুলতে চাই; আমরা যদি আজকে স্বাধীন নাগরিক হই তাহলে আজকে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল হয়ে, আইনের পোশাক পরিধান করে একজন এসপি কিভাবে আমাদেরকে হুমকি প্রদান করে হাত ভেঙে দেয়ার।
তিনি বলেন – আমি যতোটুকু সংবিধান পড়েছি, বাংলাদেশের আইন পড়েছি, এদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিটি নিয়মকানুন আমরা অধ্যায়ন করেছি কোথাও কোনো অপরাধী তা সে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন তার হাত ভেঙে দেয়ার দায়িত্ব পুলিশকে প্রদান করা হয়নি।
মামুনুল হক বলেন – এদেশে বিচারব্যবস্থা রয়েছে, আদালত রয়েছে, বিচারকরা রয়েছেন যদি কেহ অপরাধী সাব্যস্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন রয়েছে। সেই আইনের মাধ্যমে আদালত অপরাধীর বিচার করবে। প্রয়োজনে ফাঁসিতে ঝুলাতে হলে ফাঁসিতে ঝুলাবে। যাবত জীবন কারাদণ্ড দেবে। কিন্তু পুলিশকে জনগণের হাত ভেঙে দেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন – আমরা মনে করি, কুষ্টিয়ার এসপি (তানভীর) বিচার ব্যবস্থার প্রতি উপর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদান করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানকে অপমান করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন। আমার ট্যাক্সের পয়সায়, জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় যে বন্দুক তার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে সে বন্দুক আজ নিরাপদ নয়। এই অস্ত্র তিনি এদেশের জনগণের বুকে ঠেকিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন – তাই স্পষ্ট ভাষায় আদালতের কাছে আমরা দাবি তুলতে চাই যে, ‘কুষ্টিয়ার বিতর্কিত এসপি তানভীরকে অতিদ্রুত সময়ে বরখাস্ত করতে হবে’।
মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্যে বলেন – আমি সরকারের কাছে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে চাই বিশেষ করে ইস্যুর পর ইস্যু তৈরি করে আমাদের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা সফল হবে না।
আমরা কোন কিছুর মূল্যেই ভাস্কর্য ইস্যু ভুলে যাবো না। বলেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন – মুসলমানদের দেশে মসজিদের নগরীতে আপনারা যদি গায়ের জোরে, বন্দুকের নল দিয়ে ভাস্কর্য স্থাপন করার ইসলামবিরোধী সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
আমরা সর্ব শেষ সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করব, দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে আমরা অগ্রাধিকার দিব, আমরা আইন-শৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেবো না, কিন্তু ইসলামবিরোধী অপতৎপরতার কারণে এদেশের ইসলামপ্রিয় জনতার সাথে সরকারের স্থায়ী বৈরিতা তৈরি হবে এটাও আপনারা জেনে নেবেন।
তিনি বলেন, আজকে সরকার এবং রাষ্ট্রকে একটি কুচক্রী মহল ইসলাম এবং আলেম ওলামাদের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের বিতর্কিত কিছু কর্মকর্তা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আর দুর্ভাগ্য জনকভাবে আমাদের আলেম সমাজ থেকে লেবাসধারী কিছু মুনাফেক এর গোষ্ঠি তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে এরপর এদেশের আলেম সমাজের সাথে দেশের সরকারের সংঘাত ও যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার জন্য ভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যা কখনওই কাম্য নয়। সবাইকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধৈয্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
