‘মুক্তিযোদ্ধা’ জামায়াত নেতাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবর্ধনা!

নজর২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা দেওয়ার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

বিজয়ের মাস উপলক্ষে গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

 

যেখানে সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ) অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির তাজুল ইসলামের হাতেও ফুল তুলে দেন।

 

ওই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

 

এ নিয়ে বিব্রত সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, শরীফপুরে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তাজুল ইসলামকে চিনি না। আমি এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার পর আমাকে ওই অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিপক্ষ কৌশলে আমাকে দিয়ে ফুল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আমি জানলে নিশ্চয় কোনো জামায়াত নেতাকে ফুল দিতাম না।

 

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের শরীফপুর ইউনিয়নের কমান্ডার ফয়েজ আহমেদ ফুল মিয়া বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে’ তালিকায় জামায়াত নেতা তাজুল ইসলামের নাম আছে।

 

তিনি বলেন, আমরা মাইকিং করে মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত করেছি। এই দাওয়াত পেয়ে তিনি চলে এসেছেন। যেহেতু চলে এসেছেন, তাই তাকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় জামায়াত নেতা তাজুলের নাম আছে, সেটা সত্য, কিন্তু তিনি যে স্থানীয় জামায়াতের আমির এটাও সত্য। একজন জামায়াত নেতাকে ওই অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি গর্হিত কাজ।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ অনুষ্ঠানের আয়োজক মুক্তিযোদ্ধারাই। আমাকে সভাপতিত্ব করতে অনুরোধ করায় আমি সভাপতিত্ব করেছি। যতটুকু জানি তাজুল ইসলামকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার বিষয়ে এলাকায় মাইকিং শুনে যোগ দিয়েছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য মো. ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোজ্জামেল হক তপন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায় ভৌমিক, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. সাজিদুল ইসলাম সাচ্চু মাস্টারসহ অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *