প্রবাস থেকে স্ত্রীকে তালাক: আদালতের গেটে দুই শিশুর কান্নায় বদলে গেল দৃশ্য

নজর২৪, কুমিল্লা- বিয়ের ১৪ বছর পর মা-বাবার বিচ্ছেদ হল। দুই সন্তানের ভরণপোষণের জন্য দাদা বাড়ি থাকার নির্দেশ এলো। দাদা তার দুই নাতী-নাতনীকে নিয়ে যাওয়ার সময় মায়ের জন্য কান্নায় ভেঙে পরে শিশু দুটি। এক মুহূর্তেই বদলে যায় চিত্র। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লার আদালতের গেইটে এই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়।

 

পুলিশ ও আইনজীবীরা জানায়, জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের মনির হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের এক নারীর ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়ে ও ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক কলহে মনির হোসেন প্রবাস থেকে ওই নারীকে তালাক দেন।

 

মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নম্বর আদালতের স্পেশাল পিপি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। পরে আদালত তার কাবিনের টাকা পরিশোধ ও শিশুদেরকে তাদের বাবার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার আদালত গেটে শিশুদের দাদা ফরিদ মিয়া তাদের নিয়ে যেতে চাইলে শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন।

 

পরে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সালাউদ্দিন আল-মাহমুদ পুনরায় তাদেরকে আমাদের নিকট নিয়ে আসেন। আমরা দুই পক্ষকে বুঝিয়ে বলি এবং শিশুদের আপাতত মায়ের নিকট হস্তান্তর করি।

 

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের মেম্বার জাকির হোসেন বলেন, ’মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেয়েটির সংসার ভেঙেছে তার স্বামী। মেয়েটির শ্বশুর ফরিদ মিয়ার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। শিশুদেরকে তাদের মায়ের কাছে রাখা উচিত।’

 

এদিকে শিশুদের মা বলেন, ’বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে স্বামীর পরিবারকে দিয়েছি। মিথ্যা অভিযোগে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমি সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে চাই।’

 

কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সালাউদ্দিন আল-মাহমুদ বলেন, শিশুর দাদা তাদের সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে নেওয়ার সময় তারা কান্না করছিলো। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে আদালতে নিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *