নজর২৪, ঢাকা- লন্ডনে বসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়া ভাস্কর্যকে ইস্যু করে আন্দোলনের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) জাতির জনকের ভাস্কর্য উচ্ছেদের হুমকির প্রতিবাদে রাজধানীর ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘গৌরবে ৭১’ আয়োজিত সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তিনি।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে হ’ত্যা’র যে পরিকল্পনা করেছিল হাওয়া ভবনে বসে তার যে মূল নায়ক তারেক জিয়া লন্ডনে বসে আজকে এই বাবু নগরীদের এবং অন্যান্যদের মাঠে নামানোর জন্য ভাস্কর্য ইস্যুতে মদদ দিচ্ছে। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, তদন্ত করে আইনের ব্যবস্থা করেন।’
এসময়য় তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা কখনো সহ্য করা হবে না। বঙ্গবন্ধুর দেশে তার ভাস্কর্য হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালে এই মৌলবাদীরা বলেছিলেন, বাংলা হিন্দুদের ভাষা। এখন তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন। অথচ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রয়েছে। শিগগিরই দোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ উপমহাদেশে আলেমধারী কিছু ভণ্ড আছে। যারা এক সময় ইংরেজি ভাষাকে হারাম বলে মুসলমানদের পিছিয়ে দিয়েছিলেন। একাত্তরেও কিছু ভাড়াটিয়া আলেম ফতোয়া দিলেন, পাকিস্তান ভাঙলে ইসলাম ভেঙে যাবে। আজকে আবার ফতোয়া দেয়া হলো, ভাস্কর্য নাজায়েজ।’
‘আমি বাবুনগরীদের কাছে বিনয়ের সাথে প্রশ্ন রাখতে রাখতে চাই, আপনারা আগের ফতোয়াবাজধারীদের মতো। আমার ধারণা আপনারা তাদেরই উত্তরসূরি। আপনারা ধর্মকে সামাজিক কাজের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চান। ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রাম্ত করতে চান।’
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা একাত্তরে অ’স্ত্র জমা দিয়েছি কিন্তু ট্রেনিং জমা দিইনি। আপনারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলবেন আমরা কি আপনাদের চুমু দেব? না বুঝে ভাস্কর্য নিয়ে বলে থাকলে ক্ষমা চান, আর যদি জেনেশুনে বলে থাকেন তাহলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকেন।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ভাস্কর্য তো আপনাদের শানের পাকিস্তানেও আছে। অধিকাংশ মুসলিম দেশে ভাস্কর্য আছে। আমি হালাল-হারামের কথায় বাদই দিলাম। আমার প্রশ্ন, সব মুসলিম দেশে যদি ভাস্কর্য থেকে থাকে তাহলে বাংলাদেশে থাকতে দোষ কী?’
