নজর২৪, ঢাকা- সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের করা মামলা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে খালাস দিয়েছে আদালত।
ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার নোটিস যথানিয়মে জারি না হওয়ায় এবং রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইশরাককে খালাস দেওয়া হল।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার যতই অপচেষ্টা করে বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবের চেষ্টা করুক না কেন, এখনও বিচারবিভাগ ও প্রশাসনে ন্যায়-পরায়ণ মানুষ রয়েছে। আজকে বিচারক সৎ সাহস নিয়েই এই রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আমরা বিচার বিভাগে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে আমি ছাত্র থাকাকালীন তখনকার অবৈধ সরকার এই মামলা করে। গত ১৩ বছর ধরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ, বিচারবিভাগকে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এতদিন আমরা বলে আসছি। সেই জায়গায় আমি বলব আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে, দেশবাসীর বিজয় হয়েছে।
২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন নিজ ও তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী কমিশনে দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল মো. তালেব কমিশনের ওই নোটিশ জারি করতে তার বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক হোসেন সেখানে উপস্থিত না থাকায় উপস্থিত চারজনের সামনে বাস ভবনের নীচ তলায় প্রবেশ পথের বাম পাশে দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে ওই আদেশ জারি করেন
দুদক অভিযোগ করে কমিশন নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরমে জবাব দাখিল করেননি ইশরাক। এজন্য ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় ইশরাকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম।
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ইশরাকের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটিতে ইশরাক জামিনে ছিলেন।
