মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৩১টি শহীদ মিনার নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান। ভাষা শহীদদের স্বরণীয় রাখতে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নের ও ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই শহীদ মিনারগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছেন।
এরমধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বরণে উপজেলা পরিষদ চত্বরে “অর্জন” নামকরণ করে একটি দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ ও পৌরসদরের বাইমহাটি এলাকায় শিক্ষা চাহিদার কথা ভেবে দৃষ্টিনন্দন উপজেলা প্রশাসন মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভবন ও মাঠ নির্মাণও সম্পন্ন করেছেন। এবছর থেকেই যেখানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রমতে, ৩১টি শহীদ মিনারের মধ্যে ২৬টির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে বাকিগুলোর কাজ চলমান। প্রতিটি শহীদ মিনারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। শহীদ মিনারগুলোর অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং বাকিগুলোর কিছু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে করা হয়েছে। এছাড়া আজগানা ও উয়ার্শী ইউনিয়নে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিফলক নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে।
২০২১ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি যোগদান করেন হাফিজুর রহমান। স্থানীয় জনগণের কল্যাণে সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে নানাবিধ প্রতিকূলতা পেরিয়ে একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে থাকেন তিনি। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার অঙ্গীকারে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নেও দিনরাত কাজ করেছেন ইউএনও।
গত ২৯মার্চ হাফিজুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও। ছড়িয়ে পড়েছে ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করা, বিভিন্ন সংগঠন থেকে বিদায় সংবর্ধনাসহ নানান জনের ছবি ও শুভেচ্ছা বার্তা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় যোগদানের পর প্রথমেই আমার মনে হয়েছে এ উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা শহীদদের স্বরণে আরও কিছু স্মৃতি সৌধ, শহীদ মিনার থাকা দরকার। আমি গুরুত্ব দিয়ে এগুলো করার চেষ্টা করেছি এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় কাজগুলো করতে পেরেছি বলে আত্মতৃপ্তি বোধ করছি। মির্জাপুর আমার চাকুরিজীবনে অন্যতম কর্মস্থল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এসএইচ
