সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: রংপুরে যৌতুকের কারণে কেরোসিন ঢেলে পুত্রবধুকে হত্যার মামলার প্রধান আসামী শশুর ও ননদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ১৩। বুধবার (১২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ি থানা এলাকায় রংপুর র্যাব-১৩ ও ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে মাহিগঞ্জ নাছনিয়ার আব্দুল মিয়ার ছেলে শ^শুর আক্তার মিয়া ও ননদ আলেয়া বেগমকে গ্রেফতার করে।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর আলমনগর র্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক মোঃ আরাফাত ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নগরীর মাহিগঞ্জের বাসিন্দা সালমা বেগম ভালবেসে চার বছর আগে একই এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে স্বপন মিয়াকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে শ^শুর-শ^াশুড়ি যৌতুকের জন্য সালমাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এরই মধ্যে সালমা একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিলে সেই টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা ননদ আলেয়াকে ধার হিসেবে দেয়। সেই টাকা চলতি বছরের ২৪ মার্চ ফেরত চাইলে ননদ আলেয়া, শ^শুর আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বামীর সামনে সালমাকে নির্যাতন করে এবং যৌতুকের টাকা দাবী করে। এরপর ২৮ মার্চ শ^শুর আক্তার মিয়াসহ অন্য আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘরে ঢুকে সালমাকে মারপিটসহ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে দেয়।
এসময় স্বামী স্বপন স্ত্রীকে বাঁচাতে ঘরে ঢুকলে তিনিও অগ্নিদগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা এসে সালমা ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় সালমার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। গত ৩১ মার্চ শেখ হাসিনা বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগে সালমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ২৮ মার্চ সালমার মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে মাহিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে সালমার শ^শুর-শ^াশুড়ি, ননদ আত্মগোপন করে। এ ঘটনাটি গণমাধ্যমে আলোচিত হলে বুধবার র্যাব অভিযান চালিয়ে দুই আসামীকে গ্রেফতার। র্যাব-১৩ অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এসএইচ
