মাশরাফির সিলেটকে হারিয়ে শিরোপা জিতলো কুমিল্লা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ী দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ঘরে তুলল নিজেদের চতুর্থ শিরোপা। টুর্নামেন্টের এবারের আসরের ফাইনালে মাশরাফি বিন মতুর্জার সিলেট স্ট্রাইকার্সকে হারিয়ে শেষ হাসিটা হেসেছে ইমরুল কায়েসের দল। একই সঙ্গে ফাইনালে না হারার রেকর্ড অক্ষুণ্ণও রেখেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিলেটকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা। ৫২ বলে ৭৯ রান করে কুমিল্লার জয়ের নায়ক জনসন চার্লস। আগে ব্যাট করে কুমিল্লাকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দেয় সিলেট।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ হয় সিলেটের। প্রথম ওভারেই দলটির স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৮ রান। তবে পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন সিলেটের তারকা ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়। তানভীর ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন এই ডানহাতি। এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি। তবে আজকের ফাইনালে হাসে নি নড়াইল এক্সপ্রেসের ব্যাট। চার বল খেলে মাত্র ১ রান করেন তিনি।

মাশরাফির ফেরার পর ম্যাচের হাল ধরেন শান্ত ও মুশফিক। এই দুইজন মিলে সিলেটের রানের খাতা সমৃদ্ধ করতে থাকেন। এরমধ্যেই ৩৮ বলে অর্ধশতক তুলে নেন শান্ত। সমান তালে ব্যাট করতে থাকেন মুশফিকও। এই দুই ব্যাটারের উপর ভর করেই বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে এবারের বিপিএলে শুরু থেকেই চমক দেখিয়ে আসা সিলেট স্ট্রাইকার্স।

দারুণ খেলতে থাকা নাজমুল শান্ত’র ব্যাটিং তান্ডব থামে ইনিংসের ১২.২ ওভারে। মঈন আলীর বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৪৫ বলে ৬৪ রান করেন এখন পর্যন্ত এবারের আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের শীর্ষে থাকা শান্ত। এই বাঁহাতি ফেরার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। তবে উইকেটের এক প্রান্ত আগলে ব্যাট করতে থাকেন মুশি। তুলে নেন অর্ধশতকও।

সবশেষ ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ এর ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১৭৫ রান তুলতে সক্ষম হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স। তিন ছয় ও পাঁচ চারের মারে ৪৮ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশি।

কুমিল্লার হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন মুস্তাফিজুর রহমান। একটি করে উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল, তানভীর ইসলাম, সুনীল নারিন ও মঈন আলী।

১৭৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় কুমিল্লা। দলীয় ৩৪ রানে সুনীল নারাইন ও ইমরুল কায়েসকে হারায় দলটি। তবে পরক্ষনেই দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনেন ওপেনার লিটস দাস ও জনসন চার্লস। এই দুই ব্যাটারের কল্যাণে বড় জুটি গড়ে জয়ের পথে এগোতে থাকে ভিক্টোরিয়ান্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *