মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাতকড়া- ডান্ডাবেড়ি পরে মায়ের জানাজা পরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম খানের বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা।
শুক্রবার (২৩শে ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে দুপুর ১ টায় কালিয়াকৈর উপজেলার গাছবাড়ী পাবরিয়াচালা আলী আজম খানের গ্রামের বাড়ী পৌঁছান বিএনপির স্থায়ীকমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এসময় আলী আজম খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বাবু গহেশ্বর চন্দ্র রায় আজম খানের সহধর্মিণী মাহবুবা আক্তার লিপির সঙ্গে দেখা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ও কারাবন্দী আলী আজম খানের খোঁজখবর নেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগেরসহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. শফিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহম্মেদ, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আ.ন.ম. খলিলুর রহমান ইব্রাহিম ও কালিয়াকৈর পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান সহ গাজীপুর জেলা ও কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবু অরুন প্রসাদ মজুমদার সঞ্চালনা করেন।
উল্লেখ্য ককটেল বিস্ফোরণ ও আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ভাঙচুরের মামলায় গত ২রা ডিসেম্বর রাতে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো আলী আজম খানকে। পরে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে নিজ বাড়ি উপজেলার গাছবাড়ি পাবরিয়াচালা এলাকায় জানাজায় উপস্থিত হয়ে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পড়েই মায়ের জানাজা পরপর বিএনপির এই নেতা।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, শেষবার মাকে দেখতে ও মায়ের জানাজা নিজে পড়াতে আইনজীবীর মাধ্যমে গত সোমবার (১৯শে ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসক বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন আলী আজম খান। কিন্তু ওই দিন দাপ্তরিক কাজ শেষ না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার (২০শে ডিসেম্বর) তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে বিএনপির এই নেতার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়ির পাশে মায়ের জানাজাস্থলে উপস্থিত হন আলী আজম। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। মায়ের দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পুরোটা সময় হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ছিলেন আলী আজম খান।
জানাজার সময়ও আলী আজমের হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি খুলে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জানাজায় উপস্থিত লোকজন। এ অবস্থায় আলী আজমের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গত ২৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামালার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় ২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় আলী আজমকে। এ মামলায় আলী আজমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৫০ জনকে।
এ সময় বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলোন,আমরা অবৈধ পার্লামেন্টের বিলুপ্তি দাবী করছি। একটি সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন করার জন্য সরকারের কাছে আহবান করেছি। আমরা আবেদন করছি আপনারা শীঘ্রই পদত্যাগ করুন এবং মানুষের ভোটাধিকার ফেরত দিন। এই সরকার একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। যা দেশ-বিদেশে নিন্দনীয় হচ্ছে। সরকার নিন্দনীয় হলেও আমরা লজ্জা পাচ্ছি এই দেশের জনগণ হিসেবে। এর জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয় বাংলাদেশের জনগণ দায়ী নয় এর জন্য ফ্যাসিবাদী সরকার দায়ী। সবচেয়ে করুন দৃশ্য হচ্ছে আলী আজমের মা মারা গেল, এরপর প্যারলে সে জানাজায় আসলেন কিন্তু মায়ের কবরে নামতে পারলেন না। এটা অমানবিক, সে চোর কিংবা ডাকাত না। তবুও ডাণ্ডাবেড়ি পড়েই মায়ের জানাজা পড়ালেন। এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।
