ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং মডেল আশনা হাবিব ভাবনা। বড় পর্দাতেও সরব উপস্থিতি রয়েছে এই অভিনেত্রীর। তার বাবা হাবিবুল ইসলাম হাবীবও একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। তবে মিডিয়ায় বাবা মেয়ের দু’জনের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও একসঙ্গে কখনও কাজ করেননি তাদের।
কিন্তু এবারই প্রথম বাবার পরিচালনায় ‘যাপিত জীবন’ সিনেমায় কাজ করবেন ভাবনা। এই ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি।
নিজের সিনেমায় মেয়েকে নেয়ার প্রসঙ্গে পরিচালক হাবীব জানান, বর্তমান সময়ে অনেকেই বলছেন ভাবনা ভালো কাজ করছে। আমি যে সিনেমাটি বানাচ্ছি, সেখানে কাজ করার জন্য ভালো অভিনয় জানে এমন অভিনেত্রী প্রয়োজন। আর ভাবনাকে দেখেছি ভালো কাজের জন্য সে রিসার্চ করে। সেই সঙ্গে অভিনয়ের জন্য সময় নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে। যেটা অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা করে না। ও চরিত্রের ভেতরে ঢুকে গিয়ে কাজ করে। তাই আমার মনে হয়েছে এই ছবিতে ভাবনা কাজ করলে চরিত্রটি ভালো রুপায়ণ করতে পারবে। আমি বাবা হিসেবে নয়, একজন অভিনেত্রী ভাবনাকে সিলেক্ট করেছি।
তিনি আরও বলেন, শুটিং এ নিজেদের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে প্রফেশনালিজমটা আমরা অবশ্যই ধরে রাখব। ক্যামেরার সামনে যখন ও দাঁড়াবে একজন অভিনেত্রী হিসেবেই দাঁড়াবে, মেয়ে হিসেবে নয়। আর কাজের জায়গায় কাজ এবং সম্পর্কের জায়গায় সম্পর্ক থাকা উচিত। তাহলে কাজের ধারাটা ঠিক থাকবে।
এদিকে প্রথমবার বাবার পরিচালনায় অভিনয় নিয়ে বেশ এক্সসাইটেড ভাবনা। তিনি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরু আমার মতো কাজ করেছি। বাবা আমাকে ব্রেক দিক বা কারো সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিক সেটা চাইনি। কিন্তু এবার আর বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি। গল্পের কারণে আমি আব্বুর কাজটি করতে রাজি হয়েছি।’
এর আগে তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ভাবনা। মুক্তি পেয়েছে দুটি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ভাবনা অভিনীত সিনেমা ‘দামপাড়া’। ‘যাপিত জীবন’ ভাবনার চতুর্থ সিনেমা। সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হবে এটি। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে উপন্যাসটি লেখা।
‘যাপিত জীবন’ নিয়ে ভাবনা বলেন, ‘সেলিনা আন্টির উপন্যাসটি কিন্তু অনেকে পরিচিত। সম্মানজনক একটি কাজ। গল্পের কারণেই কাজটি নিয়েছি। প্রথমবার বাবা-মেয়ের কোলাবরেশন হচ্ছে। অনুভূতি বেশ ভালো।’
