ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে সেই ভিডিওগুলো

রাজধানীর গুলশান থানায় করা চিত্রনায়ক শাকিব খানের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।

শাকিব খানের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য রটিয়ে তাকে অপদস্থ করা বা ভিউ বাড়ানোর জন্য ভিডিও বানানো হয়েছে সে বিষয়ে ধারণা নিচ্ছেন তদন্তকারীরা। এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ভিডিও লিংকগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষাও শুরু করেছে পুলিশ।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই মো. বাবলু গণমাধ্যমকে বলেন, শাকিব খানের পক্ষ থেকে যে জিডিটি করা হয়েছে তার কপির সঙ্গে ১৩টি লিংক যুক্ত করা হয়। জিডিতে বলা হয়েছে, এসব লিংক থেকে শাকিব খানকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্তের শুরুতে ১৩টি লিংকের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমরা কিছু বলা যাবে না।

তিনি বলেন, মূলত এই লিংকগুলোকে ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে, এসব লিংক থেকে শাকিব খানকে নিয়ে ছড়ানো ভিডিওগুলোর পেছনের উদ্দেশ্য কি। ভিডিওগুলো কি মজা করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে শাকিব খানকে হেয়প্রতিপন্ন করতে বানানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় যদি আমরা দেখি, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে শাকিব খানকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানো হয়েছে লিংকগুলোর মাধ্যমে, তাহলে আমরা অ্যাকশনে যাব।

গুলশান থানার ওসি এবিএম ফরমান আলী বলেন, জিডিটির বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তাই নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে জিডিটি সাইবার ক্রাইমে পাঠানো হবে। তাদের সহযোগিতা নেয়া হবে।

চিত্রনায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিব খানের ব্যক্তিগত জীবন ও সন্তানের খবর প্রকাশ্যে আসে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল বিভিন্ন ভিডিও ব্যঙ্গাত্মক আকারে প্রকাশ করে। এর প্রেক্ষিতে উল্লেখিত ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক।

গত ২০ অক্টোবর রাতে গুলশান থানায় শাকিব খানের পক্ষে তার ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান জিডি করেন। জিডিতে বিভিন্ন ফেসবুক ও ইউটিউবের ১৩টি লিংক যুক্ত করে দেয়া হয়। জিডিতে বলা হয়, এই ১৩টি লিংক থেকে শাকিব খানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে আছে— ‘পূর্ণিয়ার খোঁজ’, ‘বড় ভাই’, ‘বদ বচন ২.০’ ‘আরজে নীরব’, ‘হাসান সাইদুল’, ‘০২০ চ্যানেল’, ‘দ্য ইয়াং ফেলো’, ‘এসকে মিডিয়া’ ‘শাবিজ গ্লাম রুম’, ‘স্বপন আহমেদ’, ‘দেশ বাংলা’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ নিউজ-ডিবিএন’ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *