শেষ ওভারের নাটকীয়তায় পাকিস্তানকে হারাল ভারত

রোমাঞ্চ-উত্তেজনার নানা অলিগলি পেরিয়ে ম্যাচ গড়াল শেষ ওভারে। জয়ের জন্য তখন ভারতের দরকার ১৬ রান। সেখানেও নাটক কম হলো না। স্পিনার মোহাম্মদ নাওয়াজ করলেন উচ্চতার ‘নো’ বল। সেই বলে ছক্কা হাঁকালেন বিরাট কোহলি। ফ্রি হিট ডেলিভারি তার স্টাম্প এলোমেলো করে দিলেও বাই থেকে এলো ৩ রান! ২ বলে যখন দরকার ২, দিনেশ কার্তিক হয়ে গেলেন স্টাম্পড। এরপর বোলার করে বসলেন ওয়াইড। শেষ বলে এক রান নিয়ে উল্লাসে মাতলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকে ঠাসা গ্যালারির সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ১৬০ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলল শেষ বলে।

বিশ্ব আসরে ভারতের বিপক্ষে জিততে না পারার জুজু গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে মিলিয়েছে পাকিস্তান। দশ উইকেটের ওই জয়ের পরে চলতি বছর এশিয়া কাপের সুপার ফোরে হেসেছেন বাবর আজম। ওই দুই হারের ধাক্কায় আসর থেকে বিদায় নিতে হয় রোহিতদের। এবার বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে প্রতিশোধ নিল ভারত।

বড় এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেয় ভারত। দলটির পেসারদের সামনে সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। দলের ভরসা বাবর আজম গোল্ডেন ডাক মারেন, রিজওয়ান ফিরে যান ৪ রান করে। তবু তিনে নামা শান মাসুদ এবং চারে নামা ইফতিখার আহমেদের ব্যাটে ৮ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে পাকিস্তান।

দলের হয়ে মাসুদ খেলেন ৪২ বলে হার না মানা ৫২ রানের ইনিংস। তিনি পাঁচটি চার মারেন। এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ইফতিখার ধুঁকতে থাকা ইনিংসে প্রাণ ফেরান। ছোট্ট একটা ঝড় তোলেন। অক্ষর প্যাটেলের এক ওভার থেকে তুলে নেন ২১ রান। ফিরে যাওয়ার আগে করেন ৩৪ বলে চারটি ছক্কা ও দুই চারে ৫১ রানের ইনিংস।

জবাব দিতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। ৬.১ ওভারে ৩১ রানে হারায় ৪ উইকেট। ব্যর্থ হয়ে একে একে ফিরে যান ওপেনার রোহিত শর্মা (৪) এবং কেএল রাহুল (৪), চারে সূর্যকুমার যাদব (১৫) ও পাঁচে খেলা অক্ষর প্যাটেল (২)। হার্ডিককে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন বিরাট কোহলি। শুরুতে ইনিংস মেরামত করেন পরে তোলেন ঝড়।

হার্ডিক ইনিংসের শেষ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে বিরাটের সঙ্গে গড়েন ১১৩ রানের দুর্দান্ত জুটি। ওই জুটিতে পেস অলরাউন্ডার হার্ডিকের অবদান ৩৭ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ৪০ রান। ম্যাচ শেষ করে ফেরা বিরাট কোহলি ৫৩ বলে খেলেছেন ৮২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। যে ক্যামিও ইনিংস সাজানো ছয়টি চার ও চারটি ওভার বাউন্ডারিতে।

একটু পেছন থেকে বর্ণনা দিলে ৩ ওভারে ৪৮ রান দরকার ছিল ভারতের। শাহিনের ১৮তম ওভারে কোহলি তিন চারের শটে নেন ১৭ রান। ১৯তম ওভারে হারিসকে শেষ দুই বলে দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকার কোহলি। আসে ১৫ রান। শেষ ওভারে ভারতের দরকার ১৬। প্রথম বলেই আউট হন হার্ডিক। পরের দুই বলে আসে তিন রান। চতুর্থ বলে নো করেন স্পিনার নওয়াজ। ছক্কা হাঁকান কোহলি। ফ্রি হিট বলটা প্রথমে ওয়াইড দেন, পরে স্টাম্পে লেগে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট যাওয়ায় তিন রান নেয় ভারত। দুই বলে ২ দরকার থাকতে আউট হন কার্তিক। পরে আবার ওয়াইড দিলে শেষ বল থেকে এক রান নিয়ে দলকে জয়ে ভাসান অশ্বিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *