নায়ক জাভেদের বর্তমান পরিস্থিতি জানালেন তার স্ত্রী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী দিনের চিত্রনায়ক ইলিয়াস জাভেদ। শুধু অভিনয়েই নন, নৃত্যেও রয়েছে তার অসাধারণ দখল। নৃত্য পরিচালনার মধ্যদিয়েই তার দেশীয় সিনেমায় অভিষেক ঘটে।

উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক। ছবিটি ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায়। তবে চাহিদা বাড়তে থাকে ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবানা। প্রায় ২০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন জাভেদ। নব্বই দশক পর্যন্ত সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন সিনেমায়।

আফগানিস্তানের পেশোয়ারে ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরে সেখান থেকে পাঞ্জাবে আসে তার পরিবার। ১৯৬৩ সালে মাতৃভূমি ছেড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) চলে আসেন।

সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলে নায়ক জাভেদকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, যা ইতিমধ্যে নায়কের সহধর্মিণী ডলি জাভেদের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই প্রতিবেদনে একজন সম্মানিত শিল্পীকে সমাজে ও পরিবারের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিবেদনে বর্ণনাকারী যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, যে স্থিরচিত্র তিনি দেখিয়েছেন সেগুলো ২০১৯ সালের শেষ দিকের। যখন সারা বিশ্ব করোনার বিষাক্ত থাবায় জর্জরিত ছিল। ওই সময় জাভেদ শারীরিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিষয়গুলোকে পাস কাটিয়ে সেই সময়ের বিষয় টেনে আনা হয়েছে।

ডলি জাভেদ আরও বলেন, এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে জাভেদ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে, যা একেবারেই বানোয়াট। বাংলাদেশজুড়ে জাভেদের হাজারো ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে আসায় সবাই আমার কাছে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাচ্ছেন। এই বয়সে এসে যদি শিল্পীকে মিথ্যার মুখোমুখি হতে হয় এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে।

যে ব্যক্তি নিজের জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশকে ভালোবেসে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন। আমি অনুরোধ করবো তাকে নিয়ে আর যাই করেন মিথ্যাচার করবেন না। উনি তো বারবার বলছেন তার মৃত্যু হলে যেন তাকে বাংলাদেশের মাটিতেই দাফন করা হয়। আমি তার সহধর্মিণী হিসেবে জানাতে চাই তিনি ভালো আছেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *