ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেই পছন্দ করেন সবসময়। কখনো অভিনয় আবার কখনো বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। থাকেন সব সময় খবরের শিরোনামে।
সম্প্রতি বুবলীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ছেলের পরিচয় গোপনের কারণে সমালোচনার ঝড় বইছে তাকে নিয়ে। এরই মধ্যে একের পর এক নতুন সিনেমায় অভিনয়ের ঘোষণা দিচ্ছেন বাংলার কিং খান। এবার এই তারকার বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার কাজী হায়াৎ।
তিনি বলেন, গোপনে প্রেম, বিয়ে বা সন্তান নেওয়া অপরাধের বিষয় নয়। এটি একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। একজন সুপারস্টার মনে করতেই পারেন যে, প্রেম, বিয়ে, সন্তানের কারণে তার ক্যারিয়ার বা স্টারডাম ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই সে চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে তা গোপন রাখতেই পারে। অতীতেও অনেক বিবাহিত শিল্পী এই অঙ্গনে এসে শিল্প ও নিজের ফিল্মি ক্যারিয়ার যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য সবকিছু গোপন রাখতেন।
সম্প্রতি জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান বিয়ে, সন্তান নিয়ে যা করেছে সে বিষয়ে আমি যারা এটি নিয়ে নেগেটিভ কথা বলছে তাদের প্রশ্ন করছি তাহলে কী সংবাদ সম্মেলন করে শাকিব খানের বলা উচিত ছিল যে, আমি প্রেম করছি, বিয়ে করছি, আমার সন্তান হয়েছে। আরে এটা কেমন কথা, শিল্পীদেরও তো ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু আছে। চলচ্চিত্রকারদের নিজের জীবন নিয়ে, নিজেদের মতো করে লাইফ লিড করার মতো অধিকার কী নেই।
এসময় কাজী হায়াৎ বলেন, আমাদের চলচ্চিত্রের নানা অবক্ষয় কিন্তু শিল্পটিকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন আবার যখন সুদিন ফিরতে শুরু করেছে তখন সবার লক্ষ্য রাখা উচিত ব্যক্তিগত বা পেশাদারি কাজ এমন হওয়া দরকার যাতে কোনো নেতিবাচক কর্মের কারণে দর্শক আবার আমাদের চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়।
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নিয়ে তো চর্চা বেশি হয়, এটি কীভাবে দেখছেন?, তিনি বলেন, এটি অনৈতিক চর্চা। আমি বলব, প্রকৃত গণমাধ্যম বা সত্যিকারের সাংবাদিকরা এসব বিষয় নিয়ে কখনো নোংরামি করে না। আজকাল ইউটিউবার নামে যে যন্ত্রণা বা কথিত সাংবাদিকতা তৈরি হয়েছে তারাই ভিউ বাড়ানো ও নিজেদের স্টার বানানোর জন্য সত্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়ে সুন্দর পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে পরিবেশ কলুষিত করছে। এটি একটি অনৈতিক ও গর্হিত কাজ। এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মতো অপরাধ থেকে যাতে বিরত থাকে সে জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
