মিডিয়ার মানুষের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না: সিদ্দিক

সম্প্রতি মানহীন নাটকের বিরুদ্ধে নেটিজেনদের অবস্থান বেশ সরব। তাদের তোপের মুখে পড়েছিল কাজল আরেফিন অমি নির্মিত ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। নেটাগরিকদের ক্ষোভ ও আপত্তির মুখে ধারাবাহিকটির প্রচারিত কয়েকটি পর্ব সরিয়ে ফেললেও কথা শুনিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এবার সেই দলে নাম লেখালেন টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দিলেন মানহীন নাট্য নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের। মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি কুড়ালের ছবি প্রকাশ করে কড়া ভাষায় দীর্ঘ স্ট্যাটাস লেখেন তিনি।

পরে বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আসলে নাটকের মানুষ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যে ধারণা করে, সেটাকেই আমরা আবার পর্দায় তুলে ধরছি। মানুষ বলে, মিডিয়ার লোকজন খারাপ, মিডিয়ার লোকের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না, তাদের কথা শুনলেই মনে করে চিটার। এমনিতেই নাটক অনেক দিন ধরে মুমূর্ষু জায়গায় ছিল। তার মধ্যে কতিপয় নামধারী পরিচালক ও শিল্পী আমাদের মূল নাটকের জায়গাটাকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ভাষা, অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করে নাটক বানাচ্ছে।’

এ ধরনের নাটক দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সিদ্দিক। তার বক্তব্য, ‘মানুষ কিন্তু এ বিষয়ে সোচ্চার। তারা শিক্ষিত, পারিবারিক। তারা পরিবার নিয়ে নাটক দেখতে চায়। আমরা যখন নাটক করেছি বা করি, তখন মাথায় রাখি, আমার মা-বোন ড্রয়িং রুমে বসে দেখবে। কিন্তু এখন তো শিল্পীরও শেষ নেই, পরিচালকেরও শেষ নেই। যে কেউ এই পরিচয় দেয়। তারা এ ধরনের নাটক বানিয়ে আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। সেই সঙ্গে মিডিয়ার মানুষদের ছোট করা হচ্ছে।’

আক্ষেপের সুরে সিদ্দিক আরও বলেন, ‘মিডিয়ার মানুষ হলো স্বপ্নের মতো, একসময় তারা বাইরে আদর্শ হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু এই ধরনের ভাষা, অঙ্গভঙ্গি ও পোশাক ব্যবহার করে তারা আদর্শ বা স্বপ্নের জায়গা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। শুধু তারাই যাচ্ছে না, যারা মূল শিল্পী তাদেরও দূরে নিচ্ছে। আমাকে হিট হতে হবে, তারা এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু তারা এটা চিন্তা করছে না, আমি যখন অভিনয় করবো, তখন দেশ, সার্বভৌমত্ব আমার সঙ্গে, দেশের পতাকা আমার সঙ্গে। আমি যেটা করবো, বাংলাদেশের পতাকার ওপর সেটার প্রভাব পড়বে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *