বাংলাদেশের গণমাধ্যম যা ইচ্ছা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের বিকাশমান গণমাধ্যম যা ইচ্ছা বলার (প্রকাশ) স্বাধীনতা পেয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর এ সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবকিছু বলার পরও কেউ যদি বলেন যে, তিনি কথা বলতে পারছেন না বা তাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না, তাহলে কী বলার থাকে? আমি এটা আসলে জানতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন আমি ক্ষমতায় আসি তখন দেশে একটিমাত্র টেলিভিশন, একটি রেডিও ও সামান্য কয়েকটি পত্রিকা ছিল। আমি সরকারে আসার পর গণমাধ্যমে বেসরকারি খাতের অন্তর্ভুক্তি উন্মুক্ত করে দিলাম। শুধু তা-ই নয়, টেলিফোন ছিল অ্যানালগ, ডিজিটাল করে দিলাম। মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, কম্পিউটার শিক্ষা, এই যে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর ট্রেনিং, এগুলোর ব্যবস্থা আমরাই করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ এখন এসব টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিচ্ছে এবং স্বাধীনভাবে কথা বলছে। সত্য-মিথ্যা যা-ই হোক, তারা সরকারের সমালোচনা করতেও পারছে।’

প্রায় এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচন ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপপ্রয়োগের ফলে বাংলাদেশে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যার ফলে মিডিয়াগুলো ব্যাপক সেলফ সেন্সরশিপ চর্চা করছে—এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ৪৪টি টেলিভিশনের অনুমোদন দেওয়া আছে। সেখানে প্রায় ৩২টি টেলিভিশন এখন চলছে। সেখানে যারা যান, কথা বলেন, বিশেষ করে টকশো প্রোগামটাতে খুব বেশি কথা হয়। তারা সারা দিন কথা বলে। সরকারকে গালি দেওয়া, সমালোচনা করা, প্রত্যেকটা কাজে সত্য-মিথ্যা যে যেভাবে পারছে বলছে। সব কথা বলার পর কেউ যদি বলে ‘আমাকে কথা বলতে দিল না’, তার কী জবাব আছে?’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় দেশে প্রতি রাতে কারফিউ জারি করা হতো, মানুষ রাস্তায় বের হতে পারত না। একটা মানুষ যে কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে সে অধিকারটা ছিল না। একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, সাদা একটা মাইক্রোবাস কাউকে তুলে নিলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যেত না। আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর হাজার হাজার অফিসার-সৈনিক—তাদের নি র্ম মভাবে হ ত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারি যে, ৭৫ থেকে নিয়ে ৮৬ সাল পর্যন্ত ১৯টা ক্যু হয়েছে বাংলাদেশে। এরপরেও ক্যু অ্যাটেম্প হয়েছে কয়েকবার এবং সেই সময়ে কোনো মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। কথা বলার কোনো অধিকার ছিল না। মত প্রকাশের কোনো অধিকার ছিল না যে, তারা একটা কোনো প্রতিবাদ করবে। সেই অবস্থাটা বিরাজমান ছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *