প্রীতিলতা ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
ক্রেইগ হত্যা মামলায় আরেক বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস আলীপুর জেলে আটক ছিলেন। জেলেই তার সঙ্গে প্রীতিলতা দেখা করেছিলেন ৪০ বার।
সূর্যসেনের নির্দেশ ছিল একজন বিপ্লবী আরেকজন বিপ্লবীর সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। কিন্তু প্রীতিলতা সেই নির্দেশ অমান্য করেছিলেন। কিন্তু কেন? কী এমন টান ছিল প্রীতিলতার?
হয়তো রামকৃষ্ণকে পছন্দ করতেন, ভালোবাসতেন প্রীতিলতা! এর উত্তর কি পাওয়া সম্ভব? কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ লেখার আগে এসবের উত্তর খুঁজেছেন।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পর প্রীতিলতা বি’ষ পান করে জীবন উৎসর্গ করেন। তার পোশাকের পকেটে পাওয়া যায় রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ছবি।
এ থেকে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের বিশ্বাস দৃঢ় হয়। আর সেই বিশ্বাস থেকে প্রীতিলতার মনে গোপন করে রাখা ভালোবাসা নিয়ে সেলিনা হোসেন লিখেছেন ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ উপন্যাস।
সেই উপন্যাস থেকে একই নামে সিনেমা নির্মাণ করেছেন প্রদীপ ঘোষ। রোববার প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির টিজার। সিনেমায় প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। টিজারে বিভিন্ন লুকে দেখা গেছে তাকে।
প্রীতিলতা চরিত্র প্রসঙ্গে তিশা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে অনেক বড় একটা দায়িত্ব কাঁধে চলে আসে। অনেক ভয় লাগে। কেননা এসব চরিত্রে মানুষের প্রত্যাশা বেশি থাকে। প্রীতিলতা কী করেছেন, তা জানতাম কিন্তু তিনি কীভাবে কথা বলতেন, কীভাবে চলতেন—এসব বিষয়ে অবগত নই। তাঁকে আমরা দেখিনি, তাঁর কোনো ভিডিও নেই। বই পড়ার মাধ্যমে যতটুকু অবগত হয়েছি, সেটার ওপর ভিত্তি করে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক দেখবেন। তাঁরাই বলবেন আমরা সফল কি না।’
ছবির শুটিং, ডাবিংসহ সব কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে কালার গ্রেডিংয়ের কাজ। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে ছবির ট্রেলার আসবে। ছবি প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘দর্শকেরা অনেক দিন ছবি থেকে দূরে ছিলেন। এখন অনেক ভালো ভালো ছবি আসছে। আশা করি, আমার “প্রীতিলতা”ও দর্শকের ভালো লাগবে।’
ছবিতে বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস চরিত্রে থাকছেন মনোজ প্রামাণিক। সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করছেন প্রদীপ ঘোষ। ছবির সংগীত পরিচালনা করেন বাপ্পা মজুমদার।
