ফের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরছে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। দীর্ঘদিন পর সক্রিয় ইভ্যালির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ। গত বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে পেজটি থেকে ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি লেখা পোস্ট করা হয়। যেখানে ক্যাশ অন ডেলিভারি ও পিকে অ্যান্ড পে-র কথা উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইভ্যালির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শিগগির আসছে তারা।
ফেসবুক পেজে প্রতিষ্ঠানটি ওয়ানপ্লাস মোবাইলের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছে, ‘সম্পূর্ণ ক্যাশ অন ডেলিভারি, পিক অ্যান্ড পে এবং ক্যাশ বিফোর ডেলিভারিতে উপভোগ করুন আকর্ষণীয় সব পণ্য!’ পোস্টটিতে ৭ ঘন্টার ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ রিয়েকশন দিয়েছেন। ১ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।
পোস্টতিতে ইভ্যালির পক্ষে-বিপক্ষে ১২ হাজারের অধিক মানুষ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। এরমধ্যে অনেকেই ইতিবাচক মন্তব্য করছেন। তবে বকেয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তাদের কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি। তাদের একই বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ রয়েছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা না বলার।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে ইভ্যালি। শুরুর পর থেকেই গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে দেওয়া হয় একের পর এক আকর্ষণীয় অফার। ইভ্যালির এমন অবিশ্বাস্য অফার নিয়ে শুরুতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। সমালোচনা থাকলেও গ্রাহকরা সেই অবিশ্বাস্য অফারে ঝুঁকে পড়ে। তড়িৎ গতিতে বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়।
বাইক, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ যাবতীয় সব পণ্যে মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি চলে ইভ্যালিতে। গ্রাহকরাও এমন মূল্য ছাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। শুরুতে রমরমা ব্যবসা করে ইভ্যালি।
আগে টাকা পরে পণ্য ডেলিভারি দিলেও শুরুতে গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে যখন পণ্য ডেলিভারির সময় দীর্ঘ হতে থাকে এরপরই গ্রাহকদের কাছ থেকে আসতে থাকে একের পর এক অভিযোগ। অভিযোগের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে।
গ্রাহকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইভ্যালির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানে নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিলে কোম্পানির গোঁজামিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মন্ত্রণালয় ইভ্যালির বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যেও ইভ্যালি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায় ইভ্যালির গ্রাহকদের অভিযোগ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় ইভ্যালির মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গত ২১ এপ্রিল চেক প্রতারণার ৯ মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে জামিন দেন আদালত। ওই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় কারামুক্ত হতে পারেননি রাসেল। শামীমা নাসরিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
