ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তো ফোনই ধরে না: জান্নাতুল

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে ইডেন মহিলা কলেজ। এবার ইডেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসীকে মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরপরেই শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে ইডেন ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ছাত্রলীগ নেত্রী জান্নাতুলের অভিযোগ, ছাত্রলীগের ওপরমহলে বিষয়গুলো জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। তাছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তো ফোনই রিসিভ করেন না। তাই তাদের জানানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিটবাণিজ্যসহ নানান বিষয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে কথা বলেন ছাত্রলীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী। অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জান্নাতুলকে তার হলের কক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনেন কলেজ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে সভাপতি তামান্না ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার সামনে তাকে নির্যাতন করা হয়।

জান্নাতুল বলেন, ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার কাছের মানুষ হতে পারিনি। তাই আমাদের নির্যাতন করা হচ্ছে৷ সভাপতি ও সম্পাদকের ন্যায়-অন্যায়গুলো আমরা যারা ধরিয়ে দেই, তারাই শত্রু হয়ে গেছি। কারণে অকারণে আমাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই ঘটনার বিচার না হয় তাহলে আমি আ ত্ম হ ত্যা করবো। এসময় তিনি নিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কী কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে জানতে চাইলে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে হলের পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক) রুমগুলো। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একচ্ছত্রভাবে হলের সিট বাণিজ্য করতে চান। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন তারাই তাদের শত্রু হয়ে গেছেন।

নির্যাতনের শিকার এই ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরও বলেন, রাজিয়া হলে আমার রুমে হামলা করার সময় আমি সংশ্লিষ্ট হল সুপারকে জানিয়েছি যেন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। এর আগেই গেট দিয়ে প্রবেশ করার সময়ই আমার ওপর হামলা হয়। হাতে ও শরীরে আঘাত পেয়েছি। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী যারা সেখানে ছিলেন তাদের দিয়ে আমাদের ওপর সম্মিলিত হামলা করা হয়েছে৷

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সম্পাদক রাজিয়া সুলতানাকে ঘটনাস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন