ছাদখোলা বাস থাকতেও কেন নতুন বাস কাটল মন্ত্রণালয়?

সাফ চ্যাম্পিয়ন নারী দলকে ছাদখোলা বাসে বরণ করে নিতে বিআরটিসির একটি ডাবল ডেকার বাসের ছাদ কেটে প্রস্তুত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। অথচ বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত ছাদখোলা বাসের অস্তিত্ব ছিল আগে থেকেই। তারপরও কেন নতুন বাস কাটল মন্ত্রণালয়?

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের আগে গত রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে একটা পোস্ট করেছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের ফুটবলার সানজিদা আক্তার। আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন ছাদখোলা বাসে উদ্‌যাপন না হলেও দেশের মানুষের জন্য ট্রফি জিততে চান তারা। দেশকে শিরোপা উপহার দেয়ার পর, তাদের সেই আক্ষেপ ঘোচাতে ঘোষণা দিয়ে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

এরপর কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপোতে একটি ডাবল ডেকার বাসের ছাদ কেটে বিশেষ ছাদখোলা বাস প্রস্তুত করেছে মন্ত্রণালয়। তবে বাংলাদেশে ছাদখোলা বাসের অস্তিত্ব ছিল আগে থেকেই। কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি বেসরকারি ট্যুরিজম কোম্পানির মালিকানাধীন বিশেষ বাসটিকে বিবেচনায় না রেখে কেন নতুন বাস কাটা হলো?

বাফুফে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অবশ্য সে কোম্পানির সঙ্গে বাস পাওয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই যোগাযোগ করে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে কোম্পানি না করে দেয়। তাদের না করে দেয়ার পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণ ছিল। প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা বাসটি গ্যারেজে ছিল মেইনটেন্সের জন্য। তাছাড়া বাসটির রোড পার্মিটও ছিল শুধু কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত। এইসব বিবেচনায় মালিকপক্ষ না করে দেয় বাসটি দিতে।

কোম্পানিটির রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ মজিবর রহমান বলেন, ‘বর্ষার মৌসুম হওয়ায় গত তিন মাস ধরে বাসটি বন্ধ আছে। আমি অনেক ফোন পেয়েছি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পরে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ফোন পেয়েছি। এর আগে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান থেকেও ফোন পেয়েছিলাম। বিভিন্ন কোম্পানি আমাদের গাড়ি নিতে চেয়েছিল। কিন্তু মহাসড়কে চলার মতো আমাদের রোড পারমিশন নেই। আমরা শুধু মেরিন ড্রাইভে সেবা দিয়ে থাকি। তাছাড়া বাস ঢাকা নেয়ার মতো কোনো ব্যবস্থাও আমাদের ছিল না। তাই প্রথমদিকে কোম্পানি থেকে না দেয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত ছিল।’

কিন্তু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব ছিল। সেটা জানতো বাস কোম্পানিটিও। তাই সবকিছু বিচেনায় তারা সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আবার বাস দেয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। ততক্ষণে অবশ্য নারীদের বরণ করে নেয়ার জন্য বিকল্প বাসের ব্যবস্থা হয়ে যায়।

এ বিষেয় মজিবর বলেন, ‘হঠাৎ শেষ রাতের দিকে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয় আপতত রাখ। সকালে জানতে পারলাম আমরা গাড়িটা পাঠাচ্ছি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দুপুরের আগে পর্যন্ত জানতাম আমরা গাড়িটা পাঠাচ্ছি। কিন্তু এরপরই জানতে পারলাম আমরা গাড়িটা পাঠাচ্ছি না। কারণ গাড়ি ওরা ব্যবস্থা করেছে।’

উল্লেখ্য, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে দেশের মাটিতে পা রাখবেন দক্ষিণ এশিয়া জয় করা বাংলাদেশের মেয়েরা। এমন বহুবার মেয়েরা বিদেশ থেকে ঘরে ফিরেছে। কিন্তু এবারের ফেরাটা অন্যরকম। পুরো দেশের মানুষ তাদের আসার অপেক্ষায়। এবার মেয়েদের হাতে থাকবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি। দুই দিন আগে যে ট্রফি জয় করেছে নেপালকে হারিয়ে।

কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা বিমানে এক ঘণ্টার পথ। এই এক ঘণ্টা আজ সহজে শেষ হবে না সাবিনাদের। কখন ট্রফি হাতে দেশের মাটিতে পা রাখবো-এই অপেক্ষা যেন ফুরাতেই চাইবে না সাবিনাদের।

ঢাকায় যখন পা রাখবেন তখন সাবিনারা দেখতে পাবেন অন্যরকম এক পরিবেশ। হাজার হাজার মানুষ আর মিডিয়া ক্যামেরার ভিড় ঠেলে তাদের বের হতে হবে বিমান বন্দর থেকে। বাইরে এসে দেখবেন তাদের জন্য প্রস্তুত ছাদখোলা বাস। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে যে বাসটি প্রস্তুত করেছে বিআরটিসি।

এই ছাদখোলা বাসে করেই সাবিনা, কৃষ্ণা, মারিয়া, মনিকা, সানজিদা, স্বপ্না, রূপনা, আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভীন আর শামসুন্নাহরদের বিমানবন্দর থেকে নেওয়া হবে মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনে। আগে পিছে থাকবে মিডিয়া, নিরাপত্তা বাহিনী আরো কতো উৎসুক মানুষ। রাস্তার দুই পাশের হাজার হাজার মানুষ করতালি দিয়ে মেয়েদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছে। প্রস্তুত হয়ে আছে দেশের মানুষ। সবাই যে সাবিনাদের ফেরার অপেক্ষায়। একঝাক যোদ্ধা মেয়ের অপেক্ষায়।

বাসের প্রাথমিক রুট ঠিক হয়েছে- বিমানবন্দর থেকে কাকলী, জাহাঙ্গীর গেট, পিএম অফিস, তেজগাঁও, মৌচাক, কাকরাইল হয়ে বাফুফে ভবন। বাফুফে ভবনে আরেক দফা বরণ করা হবে সাবিনাদের।

গতকাল মঙ্গলবার সারা দিন ও রাত বাস ডেকোরেশনের কাজ হয়েছে। কাঠমান্ডুতে সাবিনারা ট্রফি গ্রহণের ছবিটি বাসের গায়ে অঙ্কিত হয়েছে। বেশ বড় করা লেখা হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স। ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও রয়েছে এই বাসে।

বাসটি মতিঝিলস্থ বিআরটিসির কমলাপুর ডিপোতে ছিল। এখন এই বাসটি বিমানবন্দরে সাবিনাদের গ্রহণ করতে রওনা হয়েছে। এই বাসে করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন দল বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *