ফাইনালে হারের সব দায় নিজের কাঁধে নিলেন শাদাব, চাইলেন ক্ষমা

‘বাছা, তুমি তো বিশ্বকাপটাই ফেলে দিলে!’ ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হার্শেল গিবস ক্যাচ ফেলার পর স্টিভ ওয়াহর করা সেই বিখ্যাত উক্তিটি এখনও কানে বাজে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

আসলেই তো! একটি দুর্দান্ত ক্যাচ যেমন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তেমনি ক্যাচ মিস ভেঙে গিতে পারে স্বপ্নও। তাই ক্রিকেটে বহুল ব্যবহৃত উক্তি-ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।

রোববার রাতে এশিয়া কাপের ফাইনালে মহাগুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্যাচ মিস করলেন শাদাব খান। দুইবার জীবন পেলেন ভানুকা রাজাপাকসে। এই রাজাপাকসেই শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৭১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন।

৫৮ রানে ৫ উইকেট হারানো লঙ্কানরা ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পেয়েছে ওই ইনিংসের কল্যাণেই, পাকিস্তানের জন্যও রান তাড়া করা কঠিন হয়ে যায়। অথচ শাদাব খান যদি সময়মতো তার ক্যাচ ধরতে পারতেন, তবে লঙ্কানদের সংগ্রহটা আরও কম হতে পারতো।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে হারিস রউফের স্লোয়ারে বড় শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন রাজাপাকসে। কিন্তু লংঅফে সহজ সেই ক্যাচ ফেলে দেন শাদাব। জীবন পেয়ে ৩৫ বলে ফিফটি তুলে নেন রাজাপাকসে।

পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয় শাদাবকে। সেই তিনিই কিছুক্ষণ পর আবারও রাজাপক্ষের ক্যাচ ছাড়েন। ওভারটি ছিল মোহাম্মদ হাসনাইনের। রাজাপক্ষের রান তখন ৫১। তুলে মেরেছিলেন রাজাপক্ষে। লং অন থেকে ছুটে এসেছিলেন আসিফ আলী, ডিপ মিডউইকেট থেকে ডান দিকে শাদাব।

ক্যাচটি ছিল আসিফেরই, কিন্তু শাদাব ছুটে এসে সংঘর্ষ বাধান আসিফের সঙ্গে। আসিফের হাতে ধাক্কা লাগে শাদাবের মাথা। আসিফের হাতে লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। যা ছিল ক্যাচ, তা হয়ে যায় ছক্কা।

ফাইনালে হারের পর এ দুই ক্যাচ ছাড়া নিয়ে অনুতাপে পুড়ছেন শাদাব। টুইটারে এসে ক্ষমাও চেয়েছেন সমর্থকদের কাছে, ‘ক্যাচ ম্যাচ জেতায়। দুঃখিত। এই হারের দায় নিচ্ছি আমি। আমিই দলকে ডুবিয়ে দিয়েছি।’

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার শোয়েব আখতার অবশ্য শাদাবের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।

‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ লিখেছেন, ‘সে আমাদের সেরা ফিল্ডার। শাদাবের একটা বাজে দিন গেল, এ–ই যা!’

শোয়েব যা-ই বলুন, দলের বাকিরা যত হালকা করেই দেখুক, এশিয়া কাপের শিরোপা হাতছাড়া করা দুই ক্যাচের দুঃখ শাদাব কি সহজে ভুলতে পারবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *