বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান। শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, টিভি পর্দায়ও সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। এ ছাড়া একাধারে তিনি নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার, সংলাপ রচয়িতা ও গল্পকার হিসেবেও ছিলেন সমাদৃত।
গুণী এই অভিনেতা ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। আজ অভিনয়ের এই জাদুকরের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে এবার তিনি পা রাখতেন ৮২ বছরে।
বিশেষ এই দিনটিতে কেমন আছেন তার পরিবার? পরিবার থেকে কোনো আয়োজনই বা রাখা হয়েছে কিনা? এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় স্ত্রী রুনি জামানের।
আক্ষেপ করে তিনি বললেন, ‘বিশেষ দিনটিতে আর কি আয়োজন থাকবে। আমি নিজেও তো অসুস্থ। নানাবিধ অসুখে ভোগছি। এখন ভালোয় ভালোই তাঁর (এটিএম শামসুজ্জামান) কাছে চলে যেতে পারলেই হলো।’
কথায় কথায় রুনি জামান জানালেন, এটিএম শামসুজ্জমান চলে যাওয়ার পর এ পর্যন্ত মিডিয়ার কেউ তাঁদের খোঁজ নেয়নি। পরিবার তো দূরের কথা এটিএম শামসুজ্জামানের কবরটাও কোনোদিন কেউ দেখতে আসেনি। তবে সাধারণ মানুষ এটিএম শামসুজ্জামানকে মনে রেখেছেন। তাদের অনেকেই কবরের পাশে আসেন। পাশ দিয়ে গেলেও কবর জিয়ারত করে যান।
এটিএমের মৃত্যুর প্রথম বছর খারাপ লাগতো রুনি জামানের। এখন আর খারাপ লাগে না। মিডিয়ার মানুষ তো বেঁচে থাকা অবস্থাতেও তেমন খোঁজ নেয়নি। তাই তাদের কাছে প্রত্যাশা করাটাও বোকামি।
রুনি বলেন, ‘মিডিয়ার মানুষ সামনা সামনি অনেক কিছু বলে। কিন্তু আড়ালে গেলে তারা সব ভুলে যায়। এখন আর তাদের কাছ থেকে একটা ফোন কলও আশা করি না। যখন এটিএম শামসুজ্জমান অসুস্থ হয়ে বেঁচে ছিলেন তখনও কেউ যোগাযোগ করতো না বলে আক্ষেপ করতেন। এখন মৃত্যুর পর আমার আক্ষেপ করার আর কিছু নেই।’
জন্মদিন উপলক্ষে এফডিসি বা শিল্পীদের কেউ ফোন করেছিলো কি? উত্তরে বলেন, ‘না, কেউ ফোন করেনি।’
হতাশা ও আক্ষেপ নিয়ে তিনি আরও বলেন, শুধু জন্মদিন কেনো কোনো দিনই মিডিয়ার কেউ ফোন করেন না। তারা এটিএমকে ভুলে গেছে। এখন তাদের মনে রাখাতেও কিছু যায় আসে না।’
রুনি জামান বলেন, ‘নাটক, সিনেমার জন্য সারাটা জীবন দিয়ে গেলেন। নিজের স্বার্থে কিচ্ছু চিন্তা করেননি, নাটক সিনেমাকে সব দিয়ে গেলেন। অথচ তার মৃত্যুর পর কেউ সামান্য খোঁজ খবরটাও নিলেন না। অন্তত নাটক সিনেমার মানুষরাতো তার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে পারতেন! হয়তো এটাই বাস্তবতা।”
