৭৮ বছর পূর্ণ করে ৭৯-তে পা রাখলেন বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আবুল হায়াত। ১৯৪৪ সালের আজকের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
একুশে পদকপ্রাপ্ত আবুল হায়াত বাংলা ১৩৫১ সালের ২৩ ভাদ্র ভারতের মুর্শিদাবাদে মো. আবদুস সালাম ও শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেন। মুর্শিদাবাদের সেই আবুল হায়াতই অভিনয় দিয়ে এ দেশের নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। দেশ-বিদেশে বাংলা ভাষার নাটককে করেছেন সমাদৃত।
ভারতের পশ্চিমববঙ্গে জন্ম হলেও, দেশ বিভাগের পর চলে আসেন চট্টগ্রামে। বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা পাঠ চুকিয়ে প্রকৌশলী হিসেবে নিযুক্ত হন ওয়াসায়। ওয়াসার সেই ইঞ্জিনিয়ার অভিনয় দিয়ে হয়ে উঠেন টিভি নাটকের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘বাবা’। অভিনয় করেছেন অসংখ্যা নাটকে।
সফল, সুন্দর ও বৈচিত্র্যময় জীবনের কীর্তিমান এ অভিনেতা জন্মদিন প্রসঙ্গে বলেন, “দিনটি নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা আমার থাকে না। যা কিছু আয়োজন, পরিবারের সদস্যরাই করে থাকে। নাতনি শ্রীষার (নাতাশা হায়াতের বড় সন্তান) জন্মের পর তো সেটা আরও বেড়েছে। কারণ আমার আর শ্রীষার জন্মদিন একই দিনে। রাত ১২টা বাজার পরই ওকে নিয়ে কেক কাটতে হয়েছে। চ্যানেল আইতে দুপুর সাড়ে ১২টায় অনন্যা রুমা প্রযোজিত ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষীরা ফোন করে, খুদে বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার কারণে বিপাশা ও তার পরিবারকে খুব মিস করছি।”
একজীবনে আপনার অর্জন অনেক, তারপরও আফসোস কিংবা অপূর্ণতা কাজ করে কি? আবুল হায়াত বলেন, না। কখনোই মনে হয়নি অপূর্ণতা আছে আমার জীবনে। যতটুকু চাওয়া ছিল, তার চেয়েও বেশি পেয়েছি। আমার জীবনে কোনো অপূর্ণতা নেই। মানুষের ভালোবাসা এত বেশি পেয়েছি যা কোনোকিছুর সঙ্গে তুলনা করে হবে না। জীবন নিয়ে আমি তৃপ্ত। নিজেকে সুখী মানুষ মনে করি। একটা কাজ বাকি রয়ে গেছে, তা হচ্ছে লেখালেখি। আত্নজীবনী শেষ করতে চাই। অর্ধেক লেখা হয়ে গেছে।
আপনার জীবনের দর্শন কী?, তিনি বলেন, জীবনের একটাই দর্শন সহজ সরল জীবনযাপন করবো। হাসিখুশি জীবনযাপন করবো। সুন্দরভাবে জীবন কাটাবো। সৃষ্টিকর্তার দয়ায় এবং মানুষের ভালোবাসায় সুন্দর একটা জীবন পার করেছি। অনাগত দিনগুলিতেও এভাবেই থাকতে চাই।
কোন কথাটি আপনাকে বেশি প্রভাবিত করেছে?, আবুল হায়াত বলেন, আমার বাবাকে দিয়ে আমি ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছি। বাবার কাছ থেকে অনেককিছু শিখেছি। বাবা সৎ একটা জীবন পার করে গিয়েছেন। ওটা আমাকে প্রবলভাবে টেনেছে। বাবা একটি কথা বলতেন, ‘চাইবে কম পাবে বেশি’। এটা আমি আমার জীবনে দেখেছি এবং মিলেও গেছে। আসলেই চেয়েছি কম, কিন্ত পেয়েছি বেশি। ছোটবেলা থেকেই বাবার কথা ও জীবন দ্বারা প্রভাবিত আমি।
