শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্র ‘ভাইয়ারে’ এই চলচ্চিত্রতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাসেল মিয়া। এ ছাড়াও অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী, জারা, হেলেনা জাহাঙ্গীর অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রটিতে। কয়েক দিন আগে এই চলচ্চিত্র নিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, ‘ভাইয়ারে ছবিটি অজু করে দেখলেও অজু ভাঙবে না। ’
হেলেনা জাহাঙ্গীরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এর দুদিন পরেই রাসেল মিয়ার আরেকটি মন্তব্য শোরগোল ফেলে দেয়। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সিনেমাটিকে ‘পাপমুক্ত’ হিসেবে দাবি করেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রাসেলকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহ্র কসম, একদম কোরআন শরিফের ওপর হাত রেখে বলি এটা আসলেই একটা পাপমুক্ত ছবি। এই ছবি করতে গিয়ে কোনো অ্যাক্টর, ডিরেক্টর, প্রডিউসার একটা মেয়ের হাত পর্যন্ত ধরে নাই।
‘এই জন্য উনি (হেলেনা জাহাঙ্গীর) বলেছেন এটা একটা পাপমুক্ত ছবি, আমিও বলছি এটা আসলেই একটা পাপমুক্ত ছবি। এই ছবিতে কোনো পাপ নাই।’
রাসেলের বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সিনেমায় কয়েকটি দেশ্যের ছবিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায় তিনি অভিনেত্রীর হাত ধরেছেন, এমনটি আরও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও রয়েছে।
বিপাকে পড়া রাসেল মিয়া এবার দাবি করছেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘পাপমুক্ত’ সিনেমা বলে কিছু নেই। তিনি আবেগের বশে ভিডিওতে আগের বক্তব্যটি দিয়েছিলেন। তবে সিনেমার জগত বশ করে ফেলেছে রাসেলকে, তাই ‘পাপ’ থাকলেও অভিনয় ছাড়তে রাজি নন তিনি।
রাসেল সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সিনেমার বাইরে একটা বেগানা মেয়ের হাত ধরা অবশ্যই পাপ এবং সিনেমার মধ্যে আমি যে একটা মেয়ের হাত ধরেছি এটাও পাপ। একজন মুসলমান হিসেবে বলব, আমি কোথাও পাইনি সিনেমা করলে মানুষ (পাপমুক্ত থাকে)…।
‘আমি সব জায়গায় পেয়েছি (পাপমুক্ত) সিনেমা, এটা নাই। পবিত্র কোরআন, হাদিসে সিনেমা করার পারমিশন কোথাও নাই। আমি এটা জানি, কিন্তু আমার মন সেদিকে (সিনেমা) চলে গেছে। আমি বের হতে পারছি না, আমি কী করব বলেন?’
রাসেল যেন অনেকটা ‘জেনেশুনেই বিষ পান করা’র সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জেনেশুনেই এই পাপ করতেছি এবং আল্লাহ্র কাছে ক্ষমাও চাচ্ছি। আল্লাহকে বলেছি আমার আবেগ সিনেমা-নাটকে চলে আসছে, আপনি আমাকে মাফ করে দিয়েন।’
তবে নিজের পক্ষে কিছু যুক্তিও দাঁড় করিয়েছেন রাসেল।
তিনি বলেন, ‘সিনেমা যে পাপমুক্ত বা সিনেমা হালাল- আমি এটা কিন্তু বলিনি। এই ছবি করতে গিয়ে আমি ব্যক্তিগত কোনো পাপ করিনি। আমি বোঝাতে চেয়েছি, ব্যক্তি পাপ ছাড়াও বাংলাদেশে অসংখ্য ছবি হয়।
‘সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে যে মেয়েদের হাত ধরেনি সেটা না। আমি বোঝাতে চেয়েছি- আছে না ব্যক্তিগতভাবে কারও হাত ধরা, তার সঙ্গে আলাদা একটু সময় কাটানো… (সেটি হয়নি)।’
রাসেল মিয়া বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি সিনেমার বাইরে আমরা কেউ হাত ধরিনি। শুটিং চলাকালে তো আমি নায়িকার হাত ধরেছি, নায়িকারে তো কোলেও নিছি। এই হাত ধরা, আর সেই হাত ধরার মানে তো এক না। হাত ধরা ছাড়া কি ছবি হয়!’
