এতদিন যা করেছি,  ভুল করেছি: ভিডিও বার্তায় অনন্ত

নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল তার মানবতাবোধ থেকে অসহায় মানুষের জন্য অনেক কিছু করে থাকেন। সম্প্রতি সিলেটে বন্যায় তিনি সাহায্য করেছেন। তার বাসার সামনে সব সময় কিছু মানুষজন থাকে। অনন্ত বাসায় ঢোকা ও বের হওয়ার সময় গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, সাহায্য করেন।

কিন্তু এখন তার মনে হচ্ছে তিনি ভুল করছেন। দিন-দ্য ডে সিনেমার পরিচালক মোর্তেজা অতাশ জমজমের ইনস্টায় পোস্ট করা কিছু তথ্য নিয়ে সিনেমাটির বাজেট ৪ কোটি টাকা বলে সমালোচনা করার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার সন্ধ্যায় অনন্ত জলিলের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।

১৪ মিনিটের ভিডিওর একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গেটের সামনে আমি দাঁড়াই না। আমি একটান দিয়ে চলে আসি। আমার কাছে সব সময় এখন মনে হয় আমি বোধহয় ভুল কাজ করছি। এই যে আমি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি,  আমার মনে হয় এটা আমার ভুল হচ্ছে। এতদিন আমি যা করেছি,  ভুল করেছি। সম্পূর্ণভাবে আমি ভুল করেছি এই দেশে। আপনারা আমাকে বদলে দিয়েছেন। এখন অন্যান্য সেলিব্রিটির মতো আমিও থাকার চেষ্টা করব। অনন্ত জলিলকে আপনার মেরে ফেলেছেন এবার। এ ব্যাপারে আপনাদের ধন্যবাদ, আমার চোখ খুলে দেয়ার জন্য।’

২২ আগস্ট দিন- দ্য ডে সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক মোর্তেজা অতাশ জমজম সিনেমাটির বাজেটের চুক্তিপত্র দাবি করা কিছু কাগজ নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন।

সেখানে সিনেমাটির বাজেট হিসেবে উল্লেখ আছে ৫ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

৫ লাখ ডলারকে অনন্ত সিনেমার বাজেট না বলে তার ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ৫ লাখ ডলার জমজমকে দেয়ার কথা অনন্তর।

অনন্ত ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘চুক্তিপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশের সিনেমাটির শুটিংয়ের সব খরচ আমার দেয়ার কথা। সে অনুযায়ী আমি সেটা করেছি। সেখানে ১ কোটি টাকা লাগুক কিংবা ৪ কোটি টাকা লাগুগ, সেটা অতাশের দেখার কথা না। বিদেশের কোনো শুটিং খরচই আমার দেয়ার কথা না। মোর্তেজারা যে এখানে এসেছেন তারা এয়ার টিকিটি কিনে এখানে এসেছেন, সেটাও আমার দেয়ার কথা না। সে ক্ষেত্রে আমি তাকে ডলার কেন দেব, সেটা আমার বোধগম্য না।’

অনন্ত সেই ভিডিওতে জমজমের চুক্তিভাঙা, নিজের মতো করে সিনেমাটি বানানো ও ইরানি টিমকে টাকা না দেয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন।

জমজম যে চুক্তিপত্র ইনস্টাতে পোস্ট করেছেন, সেই চুক্তিপত্রটি লেখা ছিল বাংলায়। বাংলাদেশ-ইরান যৌথপ্রযোজনার সিনেমার চুক্তিপত্র বাংলায় লেখা কেন প্রশ্ন রেখে অনন্ত বলেন, ‘আমি হলফ করে বলতে পারি যারা খুব উৎসাহ নিয়ে মোর্তেজার সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে সমালোচনা করছেন, তারাই এ কাজটি করেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *