ফিল্মে সবাই সুবিধাবাদী, আক্ষেপ করলেন অভিনেতা ডন

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকে খল অভিনেতা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’র বেশ ভালো বন্ধু হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন। বলছি আশরাফুল হক ডনের কথা।

যিনি সালমান শাহ’র সঙ্গে ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেন। ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হঠাৎ না ফেরার দেশে চলে যান সালমান শাহ। এদিকে ডনের ক্যারিয়ারেও ঘটে ছন্দপতন। এর কারণ হিসেবে তিনি ফিল্ম পলিটিক্সকেই দায়ী করেন।

ডন ক্যারিয়ারে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন আরেক শক্তিমান খল অভিনেতা মিশা সওদাগরের সঙ্গে। মিশা সওদাগরের অভিনয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডন বলেন, ‘মিশা ভাই ন্যাচারাল অভিনয় করার চেষ্টা করেন। ফলে যাদের সঙ্গে ধরাধরি করেন তারা ব্যথা পান। অর্থাৎ অ্যাকশন বা রেপ সিনে কো-আর্টিস্ট ব্যথা পান। এটা উচিত নয়। আমরাও তো করি, রেপ সিন করি, কিন্তু কো-আর্টিস্ট ব্যথা পান না। রেপ সিন থাকলে মিশা ভাই বেশি এগ্রেসিভ হয়ে যান। চুলের মুঠি এমনভাবে ধরেন চুল ছিঁড়ে ফেলেন- এটা আমরা দেখে আসছি।’

ঢালিউডে সব সময়ই ফিল্ম পলিটিক্স ছিল। আপনি মিশা সওদাগরের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, এর আগে সালমান শাহর সঙ্গেও আপনাকে দেখা গেছে। হঠাৎ আপনার ক্যারিয়ারে ছন্দপতন। তো এ জন্য কি ফিল্ম পলিটিক্সকে দায়ী করেন?

জবাবে ডন বলেন, ‘মিশা ভাই ফিল্ম পলিটিক্সে পারফেক্ট। যার জন্য মিশা ভাই এখন ভালো একটা পর্যায়ে আছেন। আমরা ফিল্ম নিয়ে এতটা পলিটিক্স করার চিন্তা করি না, ধান্দাও নেই। আমার কথা হচ্ছে- ফিল্ম আর্টিস্ট থাকবেন ব্রড মাইন্ডের অধিকারী। শিল্পীরা উদার হবে।’

আপনার সঙ্গে কখনও মিশা সওদাগর ফিল্ম পলিটিক্স করেছেন? ডন এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘মিশা ভাই আজীবনই আমার সঙ্গে পলিটিক্স করে গেছেন। সব সময় ছোট করে পাগল বানিয়ে রেখেছেন। সে সব জায়গায় পাগল পাগল বলে আসছেন। আমরা তার সর্ম্পকে কখনও কিছু বলি না। আমরা এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি- মিশা ভাই সিনিয়র হয়ে গেছেন। তিনি এখন সহ-শিল্পীদের সঙ্গে যদি এমন আচারণ করেন তাহলে বিষয়টা খারাপ দেখায়। মিশা ভাই জুনিয়র শিল্পীদের অনেক সিকোয়েন্স কেটে দেন। এটা তাকে মানায় না।’

সম্প্রতি চিত্রনায়ক বাপ্পি বলেছেন ‘মিশা ভাই সুবিধাবাধী’। স্মরণ করিয়ে দিলে ডন বলেন, ‘বাপ্পির কাছে হয়তো সুবিধাবাদী মনে হয়েছে তাই বলেছে। নট অনলি মিশা ভাই; ফিল্মে সবাই সুবিধাবাদী। মিশা ভাই না বাংলাদেশী না আমেরিকান, না বাংলাদেশে সেটেল না আমেরিকায়। এখানে দু-চারমাস কাজ করে টাকা বানিয়ে আমেরিকা গিয়ে আবার তিন-চার থেকে আসেন। ফিল্ম এখন কম হচ্ছে। যাও দু-একটা হচ্ছে মিডিয়ার ছেলেরা বানাচ্ছে। এফডিসির পরিচালকরা সিনেমা এখন কম বানাচ্ছে। মিশা ভাই এই সুযোগে তার বক্তব্যে মিডিয়াকে খুব প্রাধান্য দিচ্ছেন। এটাও মিশা ভাইয়ের এক ধরনের পলিটিক্স।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *