নন্দিত অভিনেতা মোশাররফ করিমের জনপ্রিয়তার শুরুটা হয়েছিলো ‘ক্যারাম’ নাটক দিয়ে। নাটকটির চিত্রনাট্যকার হিসেবে সবাই জানে অভিনেতা কচি খন্দকারের নাম।
তবে এ নিয়ে নতুন বির্তকের সৃষ্টি করলেন নাটকটির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি দাবি করেছেন, কচি খন্দকারকে ক্রেডিট দেওয়া হলেও আদতে তিনি এর লেখক নয়।
মোশাররফ করিমের জন্মদিন সোমবার (২২ আগস্ট) উপলক্ষ্যে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাস দেন ফারুকী। সেখানেই এ বিতর্ক উসকে দেন তিনি।
এদিকে ফারুকীর এ স্ট্যাটাসের কড়া জবাব দিয়েছেন কচি খন্দকারও। তবে কচি খন্দকার তার স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। কেন সরিয়ে ফেলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’
স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেললেও কচি তার স্ট্যাটাসের বক্তব্যে অটল কি না জানতে চাইলে তিনি আবার বলেন, ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না।’
এর আগে সোমবার অভিনেতা মোশাররফ করিমের জন্মদিনে অভিনেতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন ফারুকী। পরিচালক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্যারাম নাটক নির্মাণের পেছনের গল্প লেখেন এবং মোশাররফকে শুভেচ্ছা জানান।
সেই পোস্টের এক জায়গায় ফারুকী লিখেছেন, ‘আমি আর আমরা সব ভাই-বেরাদর একসাথে থাকতাম সেখানে- এটা সবাই জানেন। সেই আবাসিক ক্যাম্পে আমরা আবিষ্কার করি কচি খন্দকার মোটামুটি আমার ছোটবেলার বুড়ো ভার্সন। তখন আমরা প্রতি খেলায় হারার পর কচিকে অত্যাচার করার নানা সৃজনশীল উপায় আবিষ্কার করি। এবং কচি খেপেখুপে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমি ঠিক করলাম এই সব নিয়েই ক্যারাম নামে একটা টেলিফিল্ম বানাব। এবং কচি খন্দকারের প্রতি অত্যাচারের প্রতিদান হিসাবে তাকে স্ক্রিপ্ট রাইটার ক্রেডিট দেই। যদিও স্ক্রিপ্ট লেখা সেশনের সাথে তার আদতে কোনো সংস্পর্শ ছিল না।’
এমন পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরে কচি খন্দকারও তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘মিথ্যা ক্রেডিট নিয়ে মরতে চাই না- প্রসঙ্গ ক্যারাম। আজ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ট্যাটাস পড়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম। আমার সাথে ক্যারাম খেলতে যেয়ে জয় পরাজয় নিয়ে আমাকে অনেক অত্যাচার করার জন্য পুরস্কার স্বরুপ ক্যারাম টেলিফিল্মে রচনাকারী হিসাবে আমাকে ক্রেডিট দিয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এই ক্যারাম লেখায় আমার নাকি কোনো ভুমিকাই নাই।
কিন্তু ঘটনা হাজার বছর আগের না এই মাত্র সেদিনের কথা। ভাইব্রাদার সবাই জীবিত প্রায় সবাই জানে তাদের সামনেই আমি আমার ক্যারামের স্ক্রিপ্ট পড়ি। এটাই সত্য ইতিহাস এর মধ্যে কোনো মিথ্যাচার নাই। ঘটনা অনেক কিছু উল্লেখ করা যায়। কিন্তু আমি ইতিহাসের দীর্ঘসূত্রতা টানলাম না এই ভেবে সত্য সুন্দর। আর সত্য প্রকাশের দায় সমস্ত শিল্পীর। সত্যের জয় হোক। শিল্পীর জয় হোক।’
এখন আর স্ট্যাটাসটি পাওয়া যাচ্ছে না। ইউটিউবে ক্যারাম টেলিফিল্মটি পাওয়া যায়। সেখানে ক্যারাম নাটকটির মূল রচনায় আছে কচি খন্দকারের নাম। আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাম রয়েছে রূপান্তর, চিত্রনাট্য ও পরিচালক হিসেবে।
