দর্শক ও সিনেমা খড়ায় যখন প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে ঠিক সেই সময় ‘দিন দ্য ডে’ মুক্তি পায়। অনন্ত জলিলের এই সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই দর্শকের আগ্রহে ছিল। আগ্রহ যে কারণেই হোক না কেন দর্শক হলমুখী হয়েছেন, টিকিট কেটে সিনেমা দেখেছেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুই-ই হয়েছে। এটাই বা দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য কম কি?
সিনেমাটি মুক্তির পরে কিছু কারণে সমালোচনা হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় ছিল। এরপর তো ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ নতুন করে ইতিহাস তৈরি করলো। অর্থাৎ দীর্ঘদিন পর বাংলা সিনেমার সাম্প্রতিক সময়ে যে জোয়ার এর শুরু মূলত ‘দিন দ্য ডে’ সিনেমার মাধ্যমে।
কিন্তু খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘দিন দ্য ডে’’ সিনেমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কোনো লাভ নেই!’ তার এই কথার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। হাস্যকর বিষয় হলো যে সিনেমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির লাভ নেই বলে ভাবছেন এই খলনায়ক সেই সিনেমায় তিনি নিজেও অভিনয় করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কীভাবে এমন মন্তব্য করলেন।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশা সওদাগর বলেন, “দিন-দ্য ডে’ নিয়ে কথা বলার কী আছে। এই সিনেমা দিয়ে ইন্ডস্ট্রির কোনো লাভ নেই। ১২০ কোটি টাকার সিনেমা আমাদের এখানে বানানো সম্ভব নয়। এত টাকার সিনেমা চলবে কোথায়, টাকাটা উঠবে কীভাবে? কাজেই এটা নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। এছাড়া এই সিনেমায় প্রফেশনাল কোন শিল্পী নেই। ওনারা সাধারণত শৌখিন শিল্পী।”
অনন্ত জলিল সম্পর্কে মিশা সওদাগর বলেন, “তিনি মূলত একজন বড় পর্যায়ের ব্যবসায়ী। একজন সিআইপি (বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি)। তার ফ্যাক্টরিতে ১২-১৩ হাজার লোক কাজ করে। তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের ভালো লাগা থেকেই সিনেমা বানান। এখানে ইন্ডাস্ট্রির বিন্দুমাত্র লাভ নেই। ইন্ডাস্ট্রির লাভ ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’, ‘শান’, ‘গলুই’ দিয়ে।”
উল্লেখ্য, ‘দিন-দ্য ডে’ পরিচালনা করেছেন ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ জমজম। বরাবরের মতো এই সিনেমায়ও নিজের স্ত্রী বর্ষাকেই নায়িকা হিসেবে নিয়েছেন অনন্ত জলিল।
