ওসির বিপুল সম্পদের খবর হাইকোর্টে তুললেন ব্যারিস্টার সুমন

‘ঢাকায় ওসির আট তলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। প্রতিবেদনটি দেখে আদালত তাকে লিখিত আবেদন নিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্টে বেঞ্চ সোমবার (০৮ আগস্ট) এ পরামর্শ দেয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে আনা ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, বিষয়টি আদালতের নজরে আনা দরকার। দুদকের তদন্তের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অসংখ্য সৎ পুলিশ অফিসার আছে, কিন্তু এই ওসির মতো যদি সকলেই এত সম্পদ বানান, তাহলে সৎ অফিসার যারা, তারা মনে অনেক বেশি কষ্ট পাবেন। এর ফলে দেশে আর সৎ অফিসার নাও হতে পারেন।

‘এভাবে অসৎ অফিসাররা যদি ট্রেন্ড তৈরি করেন, তাহলে সৎ অফিসার খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ জন্য বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে এসেছি। আদালত শুনেছেন। শুনে আদালত বলেছেন, এটা তো ঠিক না।

‘তখন আদালত দুদকের আইনজীবীকে ডেকেছেন। দুদকের আইনজীবীও বলেছেন, এটা খুবই হুমকিস্বরূপ; এটা হতাশাজনক। তখন আদালত আমাকে পিটিশন নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি আগামী ১০ আগস্ট বুধবারই এ বিষয়ে পিটিশন দায়ের করব।’

গত ৫ আগস্ট জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, ঢাকায় আট তলা বাড়ি করেছেন ওসি। তিনি বানাচ্ছেন আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে তার রয়েছে চারটি প্লট।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে ওসি মনিরের বিরুদ্ধে।

এতে আরও বলা হয়, পুলিশের একজন পরিদর্শক হয়ে ওসি মনিরুল কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশ বিভাগে আলোচনা চলছে। বর্তমানে তিনি নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে সাকল্যে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পান।

জানা যায়, ১৯৯২ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম, যখন এই পদটি তৃতীয় শ্রেণির ছিল। ২০১২ সালে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক হন। প্রায় ৩০ বছরের চাকরিজীবনে বেশির ভাগ সময় ঢাকা রেঞ্জে ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *