রাজধানীর মিরপুরস্থ স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখায় লুঙ্গি পরে ‘পরাণ’ দেখতে গিয়েছিলেন এক প্রবীণ। কিন্তু টিকিট বিক্রি করা হয়নি তার কাছে। লুঙ্গি পরে যাওয়াই ছিল তার অপরাধ। দৃশ্যটি কেউ একজন ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই ছড়িয়ে পড়ে তা। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
প্রতিবাদস্বরূপ আজ বৃহস্পতিবার লুঙ্গি পরে ‘পরাণ’ দেখতে যান কার্টুনিস্ট, অভিনেতা মোরশেদ মিশু। তার সঙ্গে ছিলেন আরও একজন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখা পান একাধিক জনের, যারা লুঙ্গি পরে গিয়েছিলেন টিকিট কাটতে।
মিশু সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা সনি স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বলেন, তারা লুঙ্গি পরে এসেছেন, টিকিট দেয়া যাবে কি না। কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘হ্যাঁ, দেয়া যাবে।’
তাহলে বুধবার বিকেলে লুঙ্গি পরা একজনকে কেন টিকিট দেয়া হলো না- মিশুর এমন প্রশ্নে কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা জানান, সে ঘটনা সম্পর্কে তারা জানেন না।
বৃহস্পতিবার সকালে স্টার সিনেপ্লেক্সের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবারের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সে ঘটনাও নাকি জানেন না কাউন্টারে থাকা টিকিট বিক্রেতারা।
লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেনার পর সেই টিকিট ছিঁড়ে ফেলেন মোরশেদ মিশু। তার ভাষ্য, ‘টিকিট ছিঁড়ে ফেলাটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। এর জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু এই দুঃখ প্রকাশ সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের মতো দুঃখ প্রকাশ। তারা যেমন আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে একটি বিবৃতির মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, আমিও সেভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি টিকিট ছিঁড়তাম না, যদি কাউন্টারের কেউ বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করত। যদি বলত, হ্যাঁ, বিষয়টি আমরা জানি, এটা আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা দুঃখিত। তাহলে আর কোনো কথা থাকত না। তারা বলছে, তারা কিছু জানেই না। সিনেপ্লেক্স যে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে, সেটাও নাকি তারা জানে না।’
টিকিট কাউন্টারের কেউ একবারও দুঃখ প্রকাশ না করায় টিকিট ছিঁড়েছেন বলে জানান মোরশেদ মিশু।
গত ঈদে মুক্তি পেয়েছে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘পরাণ’ সিনেমা যেখানে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ ও বিদ্যা সিনহা মিম অন্যদিকে মুক্তি পেয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’, এখানে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি, শরিফুল রাজ, সোহেল মন্ডল, সুমন আনোয়ার প্রমুখ। দুটি ছবিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলেছে, হলমুখী করেছে দর্শকদের। টিকিট নিয়ে এখনও চলছে হাহাকার!
