আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের তিন দিন পার হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কে জয়ী হচ্ছেন তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সবদিক দিয়েই এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।
কিন্তু রিপাবলিকান ট্রাম্পের খুব শিগগিরই পরাজয় মানার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। খবর ফক্স নিউজের।
যখন জো বাইডেন আমেরিকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে বাইডেনকে যেকোনো সময় বিজয়ী ঘোষণা দেয়া হবে তখন এই খবর বের হলো। যেসব অঙ্গরাজ্যে বাইডেন এগিয়ে রয়েছেন তার একটিতে জয় পেলেও হোয়াইট হাউজে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে- বাইডেনের বিজয় এখন সময়ে ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে থাকার ক্ষেত্রে অনেক পেছনে পড়ে রয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফলের এ প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউজের ওই কর্মকর্তা বলেন, কিছু কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরাজয় মেনে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু কর্মকর্তা তাকে লড়াই অব্যাহত রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরাজয় মেনে নেয়ার পক্ষেই ছিলেন কিন্তু তিনি এখন আর সেই অবস্থানে নেই।
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন বিভিন্ন সুইং স্টেটে এগিয়ে যাচ্ছেন ধীরে ধীরে। শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। তবে এপি ও ফক্স নিউজ অ্যারিজোনাতে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও শুক্রবার সেখানে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, চূড়ান্ত ফল সহসাই জানা যাবে না, কারণ ভোট গণনা এই সপ্তাহজুড়েই চলবে। তবে এখন যে পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে বাইডেনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
তবে পরাজয় স্বীকার করে প্রার্থীদের বক্তব্য দেওয়ার যে প্রচলন রয়েছে সে বক্তব্য এখনও প্রস্তুত করেননি ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠজনদের তিনি বলেছেন, নির্বাচনে হার মানার কোনও ইচ্ছে তার নেই। বরং, জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও পুত্রদের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থান করে যাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে এক হাত নিয়েছেন ট্রাম্পের দুই পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক।
বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে টুইটারে লিখেছেন–’ইচ্ছা ও লড়াই করার সক্ষমতা দেখানোর যথাযথ একটি প্ল্যাটফর্ম আছে তাদের। তবে উল্টো দেখা যাচ্ছে, গণমাধ্যমের সামনে তারা মুষড়ে পড়ছে। উদ্বেগের কারণ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প লড়াই করে যাবেন। আর বরাবরের মতো তারা কেবল দেখতে থাকবেন!’
ট্রাম্পের আরেক ছেলে এরিক ট্রাম্প সমর্থকদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, ‘কোথায় রিপাবলিকানরা! কিছুটা তো মেরুদণ্ড থাকা উচিত। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়ুন। এই সময়ে আপনারা ভেড়ার পালে মিশে গেলে আমাদের ভোটাররা আপনাদের কখনোই ভুলবে না।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকালে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের সদর দফতরের ভেতরে দ্বিমুখী বাস্তবতা দেখা গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনকে ঠেকাতে এক পক্ষ আইনি সুযোগগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করলেও আরেক পক্ষ মেনে নিয়েছে যে তারা হেরে গেছেন।
ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পলিটিকোকে বলেন, `ভোটার জালিয়াতি নিয়ে বড় ধরনের মামলা কিংবা কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সুযোগ শেষ। আর বেশিরভাগ মানুষই সেটা জানে। কেউ কেউ তা মেনে নিতে সময় নিচ্ছেন।’
ট্রাম্পের সাবেক এক সহযোগী বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি, আমরা হেরে গেছি।’ এ সহযোগী নির্বাচনের দিন রাতে তার পরেও ভাবছিলেন তার প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচিত হবেন। তবে এখন সে আশা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
