পারিবারিকভাবে ১০ লাখ টাকায় গায়ক ইলিয়াস হোসাইন ও অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা হোসেন সুবাহের মধ্যে আপস মীমাংসা হয়েছে। অভিনেত্রী সুবাহ এই টাকা বুঝে পেয়েছেন বলে আদালতকে জানান।
সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক আবেরা সুলতানা খানমের আদালতে তাদের দুজনের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আদালত এ মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেন।
এর আগে গতকাল রোববার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন সুবাহ। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে তিনি মৌখিকভাবে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা চালাবেন না বলে বিচারককে বলেন সুবাহ। এরপর বিচারক আসামি ও বাদীর উপস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহারের বিষয় শুনানি জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন।
এদিন সুবহা ও ইলিয়াস হোসাইনও আদালতে হাজির হন। সকাল ১১টার দিকে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। সুবহা সাক্ষীর কাঠগড়ায় এবং ইলিয়াস হোসাইন আসামির কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান।
এ সময় বিচারক সুবহার কাছে জানতে চান, মামলা প্রত্যাহারের জন্য আপনি কি সম্পূর্ণ স্যাটিসফায়েড? সুবহা তখন বলেন, না। বিচারক কারণ জানতে চাইলে সুবহা বলেন, ‘এখনও কিছু দেনা-পাওনা বাকি আছে। আর আমি এখনও সংসার করতে চাই। ইলিয়াস যদি চায়।’
তখন বিচারক বলেন, ‘কেউ সংসার করতে না চাইলে সেখানে না যাওয়ায় ভালো।’
এরপর বিচারক সুবহার কাছে জানতে চান, আসামি তাকে কত টাকা দিয়েছে, দেনমোহর কত? তখন সুবহা বলেন, সব মিলিয়ে ২০ লাখের মধ্যে ১০ লাখ দিয়েছে।
এ সময় নথি দেখে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, বিয়ের দেন মোহর সাত লাখ টাকা। তখন বিচারক বলেন, দশ লাখ তো বেশি দিয়েছে।
সুবহা বলেন, ‘৮ মাসের ভরণপোষণসহ অন্যান্য কিছু মিলিয়ে ১০ লাখ দিয়েছে।’
বিচারক তখন সুবহার কাছে জানতে চান, দশ লাখ টাকা পেয়েছেন। আপনি কি এতে স্যাটিসফায়েড? স্যাটিসফাই না হলে মামলা চালাতে পারেন।
তখন সুবহা বলেন,‘আমি মামলা চালাতে চাই না।’
তখন বিচারক সুবহার কাছে জানতে চান, আসামির বিরুদ্ধে আপনার কোনো অভিযোগ আছে? সুবহা বলেন, ‘না।’
দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে।
এরপর আসামিপক্ষ আপস-মীমাংসার এফিডেফিট জমা দেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, ‘মামলা আপস করতে চাইলে সাক্ষ্য দেন।’
তখন সুবহা সাক্ষ্য দেন।
এরপর আদালত আগামী ২৭ জুলাই আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং রায়ের জন্য রাখেন।
এদিকে ইলিয়াসের জামিনের বিষয়ে শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
