ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন এক জন উপজাতি নারী। দেশটির পঞ্চদশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু।
বৃহস্পতিবার চার ধাপের মধ্যে তৃতীয় ধাপের ভোট গণনা শেষেই ৫০ শতাংশের ভোট বেশি পাওয়ায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
দ্রৌপদ্রী মুর্মুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিরোধী জোটের যশবন্ত সিনহা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হবে ২৫ জুলাই। নতুন প্রেসিডেন্ট ওই দিনই শপথ নেবেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সোমবার সব মিলিয়ে ভোট দিয়েছিলেন চার হাজার ৭৯৭ জন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিরোধী জোট দলগত ভাবে যশবন্ত সিন্হাকে সমর্থন জানানো হলেও কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং এনসিপির বেশ কয়েক জন বিধায়ক ভোট দিয়েছেন শাসক শিবিরের প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুকে ভোট দিয়েছেন বলে সোমবার থেকেই জল্পনা চলছিল।
কে এই দ্রৌপদী মুর্মু
বিজেপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মুর্মু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী। এর আগে তিনি ঝাড়খন্ড রাজ্যের গভর্নর ছিলেন। উড়িষ্যার এই অধিবাসী ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের গভর্নর ছিলেন।
দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামে বিরাঞ্চি নারায়ণ টুডুর কাছে একটি সাঁওতালি উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।
রাজ্য রাজনীতিতে আসার আগে মুর্মু একজন স্কুল শিক্ষক হিসাবে শুরু করেছিলেন। তিনি শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, রায়রঙ্গপুর এর একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ওড়িশা সরকারের সেচ বিভাগে জুনিয়র সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
গত কয়েক দশক ধরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ৬৪ বছর বসয়ী মুর্মু ২০১৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শক্ত প্রতিন্দ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু সেবার বিহারের রাজ্যপাল ও দলিত নেতা রাম নাথ কোবিন্দকে সরকার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বেছে নিয়েছিল।
ঝাড়খণ্ডের প্রথম নারী গভর্নর মুর্মু নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন একজন কাউন্সিলর হিসেবে। ওড়িশা থেকে দুইবার বিজেপির হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি এবং নাভিন পাটনায়েক মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন বিজেপির সমর্থনে ওড়িশায় বিজু জনতা দল বা বিজেডি শাসন ক্ষমতায় ছিল। এ ছাড়া তিনি ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রায়রাংপুর থেকে ওড়িশা বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করেন।
