ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। শোবিজ অঙ্গনে তার পথ চলার শুরুটা হয়েছিলো লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এরপর থেকে নাটক টেলিফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ছোট পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনয় করে চলেছেন চলচ্চিত্রেও।
তবে যেখানেই কাজ করেন না কেন, সহ-অভিনয়শিল্পী নিয়ে সব সময় একধরনের উৎকণ্ঠায় থাকেন এ অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, সহ–অভিনয়শিল্পী নিয়ে কখনো কখনো হতাশও হন তিনি। এবার তাঁকে চমকে দিল ১১ বছরের অদ্রগামী সাম্য।
তাঁরা জুটি হিসেবে ‘লাল বাইসাইকেল’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। স্বল্পদৈর্ঘ্যটির ক্রিয়েটিভ প্রডিউসার অনিমেষ আইচ। রচনা ও পরিচালনা করেছেন সুব্রত সঞ্জিব।
মৌসুমী বললেন, ‘শুটিংয়ের সময় একবারের জন্যও মনে হয় নাই, সে আমার ছেলে না।’
রাতদিন মিলিয়ে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পাড় ঘেঁষে হয় ‘লাল বাইসাইকেল’ স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার শুটিং। মা–ছেলের আদর, ভালোবাসা, আবেগের ঘটনা নিয়েই এগিয়েছে এর গল্প।
মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তায় থাকতে হয় সহ-অভিনয়শিল্পী নিয়ে। কারণ, দুজন একসঙ্গে ভালো অভিনয় না করলে গল্প জমে না, মানসিকভাবেও স্বস্তি পাই না। বেশির ভাগ দেখা যায়, নতুন যাঁরা অভিনয় করতে আসেন, সেভাবে অনেকেই তাল মিলিয়ে রি–অ্যাকশন, অভিনয় করতে পারেন না। এভাবে না, একটি ভালো কাজ হয় না। এবার যখন আমাদের গল্পের পরিচালক সুব্রত সঞ্জিব দাদা বললেন, ১১ থেকে ১২ বছরের ছেলের সঙ্গে অভিনয় করতে হবে এবং আমরা দুজনই প্রধান চরিত্রে। তখন চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরে মনে হলো সাম্য শিশু হলেও অনেক মেধাবী অভিনয়শিল্পী।’
শুটিংয়ের পুরো সময় একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। গল্পের ছলে সাম্যকে অভিনয় শিখিয়েছেন এই অভিনেত্রী। পরিবারের বিভিন্ন ঘটনায় সাম্য কী অভিব্যক্তি হয়, সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে মৌসুমী বলেন, ‘ওর (সাম্য) তো এটা দ্বিতীয় নাটক। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল তাকে বোঝালে পারবে। তখন তাকে বোঝাই, ‘‘তোমার মা বকা দিলে কী করো’’, পরিবারের কোনো দুর্ঘটনা বা ইমোশনাল ঘটনায় সে কী করে, এগুলো ওকে বোঝানোর চেষ্টা করে বলি, “এখন আমি তোমার মা, আমি তোমাকে বকা দিলে কী করবা?’ একসময় সে আমার ছেলে হয়ে অভিনয় করে। মা–ছেলের এই ছোটগল্পে অভিনয় করার সময় একবারও মনে হয়নি, ও আমার ছেলে না। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির মধ্য কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে শুটিং করেছি। সারাটা ক্ষণ সে আমার সঙ্গে লেগে ছিল।’
