লক্ষ্য খুব একটা বড় নয়। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৫০ রান। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সহজেই জয় তুলে নিয়েছে লালা-সবুজের দল। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সহজেই ছয় উইকেটে জিতেছে তামিম ইকবালের দল।
রোববার দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো বোলারই পারেননি বাংলাদেশের জয়ে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে। অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ দারুণ একটি ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। তিনি ৬৯ বলে অপরাজিত ৪১ রান করেন।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাজমুল হোসেন শান্তর, তিনি ৩৭ রান করেন ৪৬ বল খেলে। আর অধিনায়ক তামিম ইকবাল ৩৩ রান করেন। শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান অপারজিত ২০ রান করেন।
এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই দারুণ সূচনা পায় টাইগাররা। নিজের প্রথম বলেই উইন্ডিজদের ইনিংসে হানা দেন মুস্তাফিজুর রহমান। শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন শাই হোপকে। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে থাকলেও কাইল মেয়ার্স ও শামার ব্রুকস শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ বল খেলে ৩১ রানের ধীরগতির জুটি গড়েন তারা। ১২তম ওভারে এই জুটিটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে কিছু বুঝে ওঠার আগে স্টাম্প চলে গেছে মেয়ার্সের। তিনি আউট হন ২৭ বলে ১০ করে।
একুশতম ওভারে দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের চাপ যেন আরো বাড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। ব্রেন্ডন কিং (৮) ও শামার ব্রুকসকে(৩৩) ফিরিয়েছেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে উইকেটে টিকে থেকে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন নিকোলাস পুরান ও রভম্যান পাওয়েল। তবে তাদের ১৯ রানের জুটিটি ২৮ বলের বেশি টিকতে দেননি মিরাজ। ২৬তম ওভারে টাইগার অফস্পিনারের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন পাওয়েল (৯)। বল প্যাডে লাগলে আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। পাওয়েল অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।
পরের ওভারে নাসুমের এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন পুরান। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে ফেরেন তিনি। তবে বাঁচতে পারেননি মিরাজের হাত থেকে। পরের ওভারে এসে মিরাজ তার ঘূর্ণি জাদুতে বোল্ড করে ফেরান পুরানকে। ২৪ বল মোকাবিলায় ৩ চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন তিনি।
দলীয় ৯৬ রানে মিরাজের দারুণ থ্রোয়ে ফেরেন আকিল(৩)। এরপর ফের জোড়া উইকেট শিকার করেন শরিফুল। রোমারিও শেফার্ড ও গুড়াকেশ মোতিকে সাজঘরে ফেরত পাঠান এই ইয়ংস্টার। ৯ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের রান তখন ১১০। কিন্তু বেশ কয়েকটি ক্যাচ ড্রপের সুবিধা নিয়ে শেষ উইকেট জুটিতে ৪৫ বলে ৩৯ রান তোলেন অ্যান্ডারসন ফিলিপ আর জেইডেন সিলস জুটি। ফিলিপ ২১ আর সিলস ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল শরিফুল ইসলাম। ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার তার। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। একটি উইকেট শিকার মুস্তাফিজুর রহমানের। অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করেন। তাসকিন ৮ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।
