এটিই আমার জীবনের শেষ সিনেমা: মালেক আফসারী

ঢাকাই ছবির অন্যতম সফল পরিচালক মালেক আফসারী। ‘লাল বাদশা’, ‘মরণ কামড়’, ‘রাজা’, ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘হীরা চুনি পান্না’, ‘ঠেকাও মাস্তান’, ‘বো মা হা’মলা’, ‘আমি জেল থেকে বলছি’ , ‘উল্টা পাল্টা’র মত ব্যবসায়িক সফল ছবি যেমন বানিয়েছেন, তেমনি বানিয়েছেন ‘এই ঘর এই সংসার’-এর মতো ক্ল্যাসিক ছবি।

তার নির্মিত ২৪টি ছবির বেশিরভাগের ক্ষেত্রে অভিযোগ বিদেশি ছবির নকলের। তিনি গত সোমবার (৪ জুলাই) ঘোষণা দিয়েছেন ২৫তম ছবি নির্মাণের। আর বলছেন তার এ ছবিটি হবে সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের।

‘আমার জীবনে অনেক ছবিই বানিয়েছি। এর অর্ধেক ছবিই নকল গল্পের, কিন্তু এটা হবে মৌলিক গল্পে। একটা সময়ে বানানো গেছে নকল গল্পে। এখন তা সম্ভব না। কারণ ইন্টারনেটের যুগে ২ মিনিট লাগবে কোন ছবি থেকে কপি করেছি। তবে আমি হয়তো হলিউডের ছবির মেকিং ডিজাইনটা ফলো করবো। আমি এটা করি। মেকিং ডিজাইন ফলো করি আমি’,— বলেন মালেক আফসারী।

ছবিটির চিত্রনাট্য লিখবেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। ৬ জুলাই থেকে বাবুর সঙ্গে গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে বসবেন আফসারী। বাবু জানালেন, আফসারীর সঙ্গে তার ছবিটি প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কী গল্প নিয়ে তাকে চিত্রনাট্য করতে হবে তা জানেন না তিনি।

বাবু বলেন, ‘আফসারী ভাই আমাকে সোমবার সকালে কল দিয়ে বলেছে গল্প নিয়ে বসতে চান। ওনার সঙ্গে এর আগে বেশ কয়েকটি গল্প নিয়ে কথা হয়েছিল। এখন কী গল্প নিয়ে স্ক্রিপ্ট করবো তা হয়তো সরাসরি বসার পর বলতে পারবো।’

শোনা যাচ্ছে, বর্তমানের একজন জনপ্রিয় লেখকের উপন্যাসের কপিরাইট নিয়েছেন মালেক আফসারী। সে উপন্যাস থেকেই করা হবে ছবির চিত্রনাট্য। বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে না দিলেও সরাসরি স্বীকার করেননি আফসারী।

তিনি বলেন, ‘গল্প তো অনেকগুলোই মাথায় আছে। সেটা উপন্যাস হতে পারে, অন্য ছবিও হতে পারে। বাবুর (আবদুল্লাহ জহির) সঙ্গে মিটিং করে ঠিক করবো কোন গল্প নিয়ে এগোবো।’

মালেক আফসারী বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের তো এক জীবনে স্বপ্ন থাকে আমার সেই রকমের স্বপ্ন ছিল এক জীবনে ২৫টা সিনেমা বানাবো। আমার ইচ্ছে পূরণ হতে যাচ্ছে। এই বছরের শেষদিকে সিনেমাটির শুটিং করবো।

সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ছবির মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্র জীবনের ইতি টানবো। জীবনে কখনো ছবি তৈরি করবো না। ২৫ নাম্বার সিনেমাটিই হতে যাচ্ছে আমার পরিচালক জীবনের শেষ সিনেমা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিনেমার কাজ শেষ করে নোয়াখালীতে আমার গ্রামের বাড়ি ফিরে যাব। সেখানে বাকি জীবন কাটাবো। কৃষিকাজ করবো। কৃষক হিসেবে জীবন-যাপন করবো। সেই পরিকল্পনাই করেছি। তাছাড়া আমি কয়েকদিন আগে নোয়াখালী একটা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছি। দোয়া করবেন। যেন আমার আশা পূরণ হয়।’

প্রসঙ্গত, মালেক আফসারী চলচ্চিত্রে নাম লেখান সহকারী পরিচালক হিসেবে। তারপর ‘ঘরের বউ’ ছবি পরিচালনার মাধ্যমে প্রধান পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তারপর একের পর হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। নানা প্রজন্মের তারকারা তার সিনেমায় কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *