ঢাকা: জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় করা মামলার আসামি হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী গাজী আনিসুর রহমানের আত্মহত্যার পর নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীকে নজরদারিতে রেখেছিলেন র্যাবের গোয়েন্দারা। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।‘
এর আগে সোমবার (৪ জুলাই) গত ৪ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ফটকের ভেতরে খোলা স্থানে আনিস নামের ওই ব্যবসায়ী নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার শরীরে আগুন দেখে আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে গিয়ে আগুন নেভান। কিন্তু তার আগে আনিসের পোশাক সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া আনিসকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ভর্তি করানো হয়। কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে গাজী আনিসের ভাই নজরুল ইসলাম হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।
গাজী আনিসের স্বজনরা দাবি করেন, হেনোলাক্স কোম্পানি কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার পেছনে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক নুরুল আমিন জড়িত।
গাজী আনিসের মামাতো ভাই তানভীর ইমাম প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বলেন, আমার ভাই এক কোটি ২৬ লাখ টাকা পেতেন হেনোলাক্স কোম্পানির কাছে। এই টাকা না দেওয়ায় তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। টাকা পেতে আমার ভাই কুষ্টিয়া আমলি আদালতে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীকে আসামি করে দুটি মামলা করেছিলেন, যা বিচারাধীন।
এদিকে মৃত্যুর আগে ২৯ মে গাজী আনিস প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালে হেনোলাক্স গ্রুপের কর্ণধার নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সূত্রেই ২০১৮ সালে তিনি এই টাকা হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগ করেছিলেন।
জানা গেছে, গাজী আনিসের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি একসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি বাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে।
