নাগরপুরে ঘুষ ছাড়া মিলে না প্রতিবন্ধী ভাতা বই!

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- দেশের ১১২টি উপজেলাকে বিশেষ বিবেচনায় ১০০% বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের ভাতা প্রদানের জন্য অর্ন্তভুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের উদ্দেশ্য টাঙ্গাইল-৬ আসনের সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নাগরপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

এজন্য নাগরপুর উপজেলার হতদরিদ্র মানুষ দুহাত তুলে প্রধানমন্ত্রী ও সাংসদ টিটুকে দোয়া করেন। কিন্তু কতিপয় সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি এ সহযোগিতা সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করছে।

 

অভি’যোগ উঠেছে, এসব ভাতা দেওয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণের। খোদ সমাজ সেবা কর্মকর্তা সৌরভ তালুকদারের সহযোগিতায় সকল ইউনিয়ন অফিসার সুযোগ বুঝে কার্ডধারীর কাছ থেকে ভাতা বই প্রদানের জন্য ২০০-৫০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এজন্য রয়েছে নির্ধারিত কিছু দালাল। যারা কমিশন ভিত্তিতে ঐ সকল কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করে থাকেন।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাগরপুর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কাবুল কুমার সিংহ, মোসাঃ লিপি আক্তার এর কাছ থেকে ভাতা বই প্রদানের জন্য ইউনিয়ন সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম ব্যাক্তি ভেদে ২০০-৫০০ টাকা উৎকোচ দাবি করেছে। এর পূর্বে এসকল অসহায় হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ১০০-২০০ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে অভি’যুক্ত এ কর্মকর্তা।

 

উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম জানান, অভি’যোগকারীরা মিথ্যুক ও তারা টাকা নেওয়ার বানোয়াট গল্প সাজিয়ে তার সম্মান নষ্ট করতে চায়।

 

তিনি অভি’যোগের কোন ভিত্তি নাই বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে চিৎকার চেচামেচি করেন এবং সামাজ সেবা কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে বলেন।

 

এ বিষয়ে সমাজ সেবা অফিসার সৌরভ তালুকদার বলেন, আমার কাছে কেউ অভি’যোগ দেয়নি। আর আমিই এ সকল ভাতার বই অনুমোদন করি। স্থানীয় সংবাদকর্মীগণ ভূক্ত’ভোগীদের তার অফিস কক্ষে হাজির করলে তিনি অভি’যোগ শুনেন এবং তার সহকর্মীর কাছে উৎকোচ গ্রহণ করেছে কিনা জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।

 

জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ শাহ আলম বলেন, নাগরপুর উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসাবে রেখে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের কে নিয়ে কাজ করছে সমাজ সেবা অফিস। এসব হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে কোন উৎকোচ গ্রহণ করলে তদন্তে সাপেক্ষে অভি’যুক্তদের বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *