কুমিল্লা: প্রথমবারের মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের মধ্যে দিয়ে ইতিহাস গড়লেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। এ জয়ের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় সাক্কু যুগের অবসান ঘটালেন তিনি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর এই প্রথম নৌকার প্রার্থী মেয়র পদে জয় পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী রিফাত তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাক্কুকে ৩৪৩ ভোটে পরাজিত করেন। ইভিএমে নেওয়া ভোটের হিসাবে রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।
বুধবার (১৫ জুন) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ ফল ঘোষণা করেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য তিন প্রার্থী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতীকে ২৯ হাজার ৯৯, রাশেদুল ইসলাম হাতপাখায় তিন হাজার ৪০ ও কামরুল আহসান বাবুল হরিণ প্রতীকে দুই হাজার ৩২৯ ভোট পেয়েছেন।
এর আগে কুমিল্লা নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে বিকেল ৫টায় ফলাফল ঘোষণা শুরু করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রথম থেকেই ফলাফলে একবার রিফাত এগিয়ে ছিলেন, আরেকবার সাক্কু এগিয়ে ছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টার ফল ঘোষণার সময়ে একেকবার ফলাফল একেকজনের দিকে হেলে পড়ে।
তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ১০১টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় মনিরুল হক সাক্কু ৬ শতাধিক ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় ফল ঘোষণা। ফলাফল ঘোষণার কেন্দ্রে তখন দুই প্রার্থীর সমর্থকেরাই বিজয় মিছিল করতে থাকেন এবং নিজ নিজ প্রার্থীর জয় হয়েছে বলে দাবি করতে থাকেন।
এসময় হলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এরপর খুব দ্রুত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অল্প সময়ের ওই ঘোষণায় একবারেই ১০৫ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করে দেন তিনি। সেখানে কেবল প্রার্থীদের চূড়ান্ত ভোট সংখ্যা এবং ব্যবধান উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর তিনি নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত বেসরকারি এ ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। তাঁর দাবি, শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাক্কু দাবি করেন, তাদের নিজেদের হিসাবে কেন্দ্র থেকে আসা ফল অনুযায়ী টেবিল ঘড়ি প্রতীক ৯৮০ ভোটে নৌকার চেয়ে এগিয়ে আছে। এ ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে সিটি করপোরেশনের ১০৫ কেন্দ্রের ৬৪০ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। নির্বাচনে দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। দুজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
