‘শত্রু’ থেকে যেভাবে ‘বন্ধু’ হলেন মৌসুমী-জায়েদ খান

ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা দম্পতি মৌসুমী-ওমর সানীর সঙ্গে জায়েদ খানের বৈরিতার বিষয়টি ঢালিউড অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ছিল প্রকাশ্য। তবে সেটি এখন অতীত, মৌসুমীর সঙ্গে উল্টো সখ্যে জড়িয়েছেন জায়েদ।

বিষয়টির গভীরতা এতটাই যে এ নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন মৌসুমীর স্বামী সানী। ওমর সানীর অভিযোগ, মৌসুমীর সঙ্গে তার সংসার ভাঙার চেষ্টা করছেন জায়েদ খান।

ত্রিভুজ সংকটের মধ্যে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমীর সঙ্গে জায়েদের দূরত্ব হঠাৎ করেই কমতে থাকে সোনার চর সিনেমার শুটিংয়ের সময়। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গত নির্বাচনের সময় তা আরও ঘনিষ্ঠ হয়। মিশা-জায়েদের সঙ্গে একই প্যানেল নির্বাচন করেন মৌসুমী।

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে মৌসুমী তাদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ভেদাভেদের কোনো প্রশ্নই আসে না। এখানে তো কেউ রাজনীতি করতে আসে নাই। আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসার বিনিময় ভালোবাসা দিয়েই হয়।

‘আমি আপনাদের ভালোবাসা দিতে চাই। সেটা তো একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দিতে হবে। আমি সবার হাতে হাতে গিয়ে এটা দিতে পারব না। আর এখানে ডিপজল ভাই আমার গুরুজন, তার ভালোবাসা আমি উপেক্ষা করতে পারব না। তিনি বলেছেন, সেটা আমার কাছে আদেশ। তাই আমি নির্বাচন করছি।’

ডিপজল ও মৌসুমী একসঙ্গে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সেসব সিনেমা তুমুল জনপ্রিয়ও হয়েছে। তবে ২০১৭ বা ২০১৯-এ শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষ হয়ে নির্বাচন করেন তারা। কথার মারপ্যাঁচে একে অপরের নিন্দাও করেছেন সে সময়।

তবে ২০২২-এর জানুয়ারিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কী কারণে ডিপজল তার প্যানেলে মৌসুমীকে রাখতে চাইলেন এবং নিজের উদ্যোগে মিশা-জায়েদের সঙ্গে মৌসুমীর দূরত্ব কমালেন?

এই প্রশ্নে ডিপজল বলেন, ‘মৌসুমীর সঙ্গে আমার পরিচয় ২০ থেকে ২৫ বছর। অনেক সিনেমা করেছি। ব্যক্তিগতভাবেও মৌসুমী ও তার পরিবার নিয়ে আমার জানাশোনা আছে। আমার সম্পর্কেও মৌসুমী ও তার পরিবার জানে। মৌসুমী ভালো মানুষ।’

ডিপজল আরও বলেন, ‘শিল্পীদের জন্য মৌসুমীর অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে। সেটা আমি জানি। সে জন্যই তাকে আমাদের প্যানেলে নেয়া।’

মৌসুমীকে কীভাবে রাজি করালেন জানতে চাইলে ডিপজল বলেন, ‘আমার কিছুই করতে হয়নি। মৌসুমীকে বিষয়টা বলেছি। বলার সঙ্গে সঙ্গেই সে বিষয়টা বুঝেছে এবং রাজি হয়ে গেছে।’

শিল্পী সমিতির নির্বাচন বা এর আগে পরে মৌসুমী-ডিপজল-জায়েদ খানকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দেখা গেছে বিভিন্ন জায়গায়। নির্বাচনে একসঙ্গে হইহুল্লোর করে কাজ করেছেন, অংশ নিয়েছেন টিভি অনুষ্ঠানে। জায়েদকে ‘অলরাউন্ডার’ বলেও আখ্যায়িত করেন মৌসুমী।

মৌসুমী ও সানীর সঙ্গে মিশা ও জায়েদের দূরত্ব তৈরি হয় ২০১৭ সাল থেকে। সেবার শিল্পী সমিতিতে নির্বাচন করে জিতেও পদত্যাগ করেন মৌসুমী। পরের নির্বাচনে মৌসুমী সভাপতি পদে লড়াই করেন এবং হেরে যান।

যদিও এসব ঘটনাকে কখনও দূরত্ব হিসেবে প্রকাশ্যে দাবি করেননি মৌসুমী বা জায়েদ খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *